ঢাকা | রবিবার | ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ডুমুরিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’র জোরালো মানববন্ধন

খুলনার ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরে শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ খুলনা চাই’ ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির উদ্যোগে মাদকবিরোধী একটি বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ করে তরুণ সমাজকে বাঁচানো ও একটি সুস্থ, নিরাপদ স্থানীয় সমাজ গঠন করা।

সমাবেশের শুরুতেই সদস্য সচিব শেখ ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপজেলা আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. শাহজাহান জোমাদ্দার। অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, místর স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একত্রিত হয়ে মাদকবিরোধী ঐক্যবদ্ধ বার্তা দিয়েছেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম উল্লেখ করেন, ‘মাদক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নীরবে ধ্বংস করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারস্পরিক সহমত এবং দল-মত নির্বিশেষে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ডুমুরিয়াকে যেকোনো মূল্যে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।’

বিশেষ অতিথি ও ‘নিরাপদ খুলনা চাই’ খুলনা জেলা সভাপতি সরদার বাদশা বলেন, ‘মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি সমাজে সচেতনতা বাড়াতে আমরা সবধরনের পদক্ষেপ নেব।’

অনুষ্ঠানের বক্তব্যে আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সংগঠনের নেতা মো. শাহজাহান জোমাদ্দার বলেন, ‘ডুমুরিয়াকে মাদকের অভয়ারণ্য হতে দেবো না। যারা এ ব্যবসায় জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সকলকে পুলিশের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।’

সমাবেশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ওলিয়ার রহমান, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, খুলনা জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ বদরুজ্জামান বাবলু, রঞ্জন সরদার, অ্যাডভোকেট মমিনুর রহমান নয়ন, বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান, আজিজুর রহমান মোড়ল, ডুমুরিয়া বাজার কমিটির সভাপতি শেখ মাহাবুবুর রহমান, হাফেজ মতিয়ার রহমান, মাওলানা তৌফিকুল রহমান, নুর মোহাম্মদ শেখ, মো. ফারুক শেখ প্রমুখ জড়িত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন।

সমাবেশে বক্তারা একসঙ্গে মাদক বিরোধী সচেতনতা বাড়ানো, প্রশাসনের সহায়তায় কড়া ব্যবস্থা নেয়া এবং সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে—এই অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা মাদক নির্মূলের জন্য ব্যাপক সমর্থন প্রদর্শন করেন এবং স্থানীয়ভাবে নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।