শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, দেশে নকলের প্রবণতা এখন অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সরকারের অগ্রাধিকার এখন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের ওপর কাজ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল; বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নকল এখন আর হচ্ছে না; আমরা এখন মূলত শিক্ষার মান উন্নয়নের ওপর কাজ করছি। শিক্ষকদের যে কন অসুবিধা আছে, শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে এমন কারণগুলো চিহ্নিত করে তারই সমাধান করা হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই শিক্ষক ও শিক্ষাশিক্ষিতদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার নেওয়া হচ্ছে।’
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনো অবস্থাতেই হবে না; যদি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে, তখন দায়ীদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তি হবে, যা সারাজীবন বাংলাদেশ মনে রাখবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় থাকবে না। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বিভাগীয় কমিশনার খলিলুল আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি, উজিরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এস এম সরফুদ্দিন সন্টু, বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইউনুসসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।














