ঢাকা | সোমবার | ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পুঁজিবাজারে ঢালাও দরপতন, সূচক ও লেনদেন দুটোই নীচে

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে ঢালাও দরপতন দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকগুলো নিম্নমুখী থাকায় লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু বড় মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামের ওঠানামা বাছাই করা সূচকে সামান্য ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও সামগ্রিক পরিবেশ ছিল নিম্নমুখী। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই चित्र—দরপতনের তালিকায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের নাম থাকায় সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে।

ডিএসইতে দিনের প্রথমার্ধে অনেক কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ায় সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু বেলা শেষে বিনিয়োগকারীদের তীব্র বিক্রির চাপ বাড়ায় অনেক শেয়ার দরপতনের তালিকায় যুক্ত হয়। দিনের শেষ পর্যন্ত ডিএসইতে মাত্র ৭১টি প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের শেয়ার দর বাড়ে, বিপরীতে ২৯৮টির দর কমে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। মানসম্মত বা ভালো লভ্যাংশ প্রদানের ক্যাটাগরির ৪৫টির দাম বাড়লেও ১৪৩টির দরপতন হয়েছে। লভ্যাংশ না দেওয়ার ‘জেড’ গ্রুপের মধ্যে ১১টির দাম বাড়লেও ৯৭টির দর নেমে এসেছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যেও অধিকাংশের দাম হ্রাস পায়।

সূচকের দিক থেকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট লুঙ্গে পড়ে ৫ হাজার ৬৩৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করে; আর বাছাই করা ৩০টি কোম্পানির নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সামান্য বেড়ে ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ রিপোর্ট করা হয়েছে ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৯৪ কোটি টাকারও বেশি কম। লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস—তাদের শেয়ার হাতবদলের পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি ৭৮ লাখ টকা। শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, রবি এবং এনসিসি ব্যাংক।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) পরিস্থিতি আরও মন্দ—সার্বিক সূচক সিএএসপিআই 이날 ১০৪ পয়েন্ট লস করে। বাজারে লেনদেন হওয়া ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৬৯টিতে, আর ১৩৬টির দর কমেছে। সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৮৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার তুলনায় অনেক কম।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেন্টিমেন্ট দুর্বল থাকায় ছোট ছোঁড়া বিক্রির চাপ বাড়ছে এবং লিকুইডিটি সংকুচিত হচ্ছে। অপেক্ষা থাকে, পরবর্তী কার্যদিবসে কোনও বড় ঘটনার প্রভাবে বাজারে স্থায়িত্ব ফিরবে কি না।