ঢাকা | রবিবার | ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বছরের শেষে মুক্তি পাচ্ছে ‘আন্ধার’ — বিশ্বকাপ শেষেই শুরু হবে প্রচারণা

শুটিং শেষে গত বছর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েই খবরের শিরোনামে ওঠা ভৌতিক চলচ্চিত্র ‘আন্ধার’ এবার বছরের শেষ দিকে মুক্তি পাবে বলে নিশ্চিত করেছেন এর চিত্রনাট্যকার ও সহপ্রযোজক শাকিব চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের শেষ দিকে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি দেখানো হবে। মূলত আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠিক মুক্তির তারিখ ঘোষণা করে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করা হবে।

২২১ বি প্রযোজনা ব্যানারে নির্মিত এই হরর ছবি পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফী। ছবিটিতে রয়েছেন দেশের আলোচ্য একঝাঁক সিনে-তারকা — সিয়াম আহমেদ, নাজিফা তুষি, চঞ্চল চৌধুরী, আফসানা মিমি, গাজী রাকায়েত, মোস্তফা মনওয়ার ও তানজিকা আমিন। পাশাপাশি বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন নতুন মুখ দুইজন: ফররুখ আহমেদ রেহান ও স্বর্ণালী চৈতি। ইতিমধ্যে অভিনেতাদের ডাবিং কাজ শেষ হয়েছে এবং ছবির শেষ ধাপের পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য পরিচালক বর্তমানে ভারতে রয়েছেন।

চলচ্চিত্রের মূল কাহিনি অনুপ্রাণিত হয়েছে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে — ‘অর্থহীন’ ব্যান্ডের সাইদুস সালেহীন সুমন ও ‘ক্রিপটিক ফেইট’-এর শাকিব চৌধুরীর ভৌতিক অনুসন্ধানভিত্তিক অভিজ্ঞতা থেকেই গল্পের বীজ রোপণ হয়। এ দুজন বন্ধু বিভিন্ন সময়ে দেশের নানা জায়গায় ঘুরে ভৌতিক গল্প সংগ্রহ করতেন এবং একসময় জিবরান নামের বন্ধুকে নিয়ে তারা ‘ভৌতিস্ট’ নামের একটি রেডিও শো পরিচালনা করতেন। সেই শো-ই ছবির গল্পের মূল ধারণা হিসেবে কাজ করেছে। পরবর্তীতে আদনান আদিব খান গল্প রচনায় যুক্ত হন; চিত্রনাট্য ও সংলাপ যৌথভাবে তৈরি করেছেন শাকিব চৌধুরী ও আদনান আদিব খান।

নির্মাতারা জানাচ্ছেন, ‘আন্ধার’ পশ্চিমা হরর ধারার ক্লিশে অতিক্রম করে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রেক্ষাপটে দাঁড় করানো হয়েছে। ছবিতে কেবল ভয়ের সঙ্গে থ্রিলার, রহস্য ও হত্যাকান্ডের উপাদানই নেই — আবেগঘন মোমেন্টগুলোও যে ভুতুড়ে গল্পকে মানবিক গভীরতা দেবে, সেটাই তাদের লক্ষ্য। দর্শকদের জন্য মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের একটি ছবি উপহার দিতে পোস্ট-প্রোডাকশনে ভিন্ন মাত্রার কাজ করা হচ্ছে।

প্রযোজনা টিমের কথায়, বিশ্বকাপ শেষে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের প্রচারণা এবং দর্শক আকর্ষণ করার আকর্ষণীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুটিং ও ডাবিং শেষ হওয়ায় এখন বাকিটা কাজ মূলত পোস্ট-প্রোডাকশন ও মার্কেটিং-এ কেন্দ্রীভূত থাকবে — যেন ছবি জনসাধারণের সামনে যাওয়ার সময় দর্শকদের প্রত্যাশা মিটে।

ফিল্ম ফ্যানদের আগ্রহ বাড়াতে নির্মাতা ও প্রযোজকরা শিগগিরই মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ও আরও কিছু কনটেন্ট (ট্রেলার, পোস্টার) উন্মোচন করবেন বলেও জানান অনেকে। ভৌতিক গল্প ও দেশীয় পরিবেশ মিলিয়ে ‘আন্ধার’ কেমন খেলাবে — তা বোঝার জন্য দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে বছরের শেষ পর্যন্ত।