ঢাকা | শুক্রবার | ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরান ফের অতর্কিত হামলা: জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-র কড়া বার্তার এক দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত তিনটি দেশে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও বন্দোকবলহীন ড্রোন (ইউএভি) ব্যবহার করেছে বলে রিপোর্ট এসেছে। ইরান জানিয়েছে, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু জর্ডানেই ইরানি বাহিনী ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই সব ক্ষেপণাস্ত্রকে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মোট ১৮টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। একই সাথে তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকেও লক্ষ্য করে আঘাতের কথা জানিয়েছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানি ড্রোনগুলো প্রতিহত করার সময় খসে পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের কারণে হামাদের একটি শহরে এবং রাজধানী মানামায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী সামান্য আহত হয়েছে। কুয়েতও জানায় যে, হামলার পর তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এর আগে জিসিসি একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ইরানের এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌচলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং এ সবের পূর্ণ দায়ভার তেহরানের ওপর পড়ে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জিসিসি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য; মহাদেশীয় কোনো একটির বিরুদ্ধে হামলা মানে সবার বিরুদ্ধে হামলা।

জিসিসি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা যেন এই হামলার নিন্দা জানায় এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।