রাজধানীর মঞ্চে আবারও ফিরে আসছে বিবেকানন্দ থিয়েটারের প্রশংসিত একক নাটক ‘ভাসানে উজান’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে আগামীকাল বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এই নাটকের নবম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছরের নভেম্বরের উদ্বোধনী প্রদর্শনীর পর থেকে নাটকটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে; ইতোমধ্যে আটটি সফল প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে এবং নাট্যপ্রেমীরা নতুন মঞ্চায়নের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।
নাটকটি বিশ্বসাহিত্যিক ফিওদর দস্তয়েভস্কির ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে নির্মিত। কাহিনীর মূল সূক্ষ্মতার কেন্দ্রীয় বিষয়গুলো—মানুষের অন্তর্নিহিত নীরবতা, অপরাধবোধ, ভালোবাসা ও একাকীত্ব—মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুধাবন করে পাঠান। এখানে প্রচলিত সংলাপের বদলে অনুভবের ভাষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে, ফলে দর্শকরা চরিত্রের অন্তর্লোকের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ করে উঠেন।
নাটকের একক চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা মো. এরশাদ হাসান। তার সংযত ও তীক্ষ্ণ অভিনয় চরিত্রের জটিল মানসিক অবস্থা ও আবেগকে প্রাণবন্তভাবে তুলে এনেছে এবং দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
নাট্যরূপ দিয়েছেন নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু এবং নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নির্দেশকের ভাষ্যে, দস্তয়েভস্কির জটিল মনস্তত্ত্বকে সংবেদনশীল একটি একক নাট্যমাধ্যমে প্রকাশ করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু বলেন—একজন মানুষ কি প্রকৃত অর্থে ভালো হয়ে শেষ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে?—এই জীবনদর্শনীয় প্রশ্নই নাটকের মূল উপজীব্য। এরশাদ হাসানের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে এই প্রশ্নগুলো দর্শকের কাছে স্পষ্ট ও প্রভাবশালীভাবে পৌঁছে গেছে।
নেপথ্যে কাজ করেছেন দক্ষ কুশলী যারা প্রযোজনাটির শিল্পগত মান বাড়িয়েছেন; মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় পলাশ হেনড্রী সেন, সংগীত পরিচালনায় হামিদুর রহমান পাপ্পু, পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি, প্রপস পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্ণো ও কোরিওগ্রাফিতে রবিন বসাক। নির্মাতা জানান, নাটকটি ইতোমধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ কয়েকটি নাট্য উৎসব থেকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়েছে।
বিবেকানন্দ থিয়েটারের ২৫তম প্রযোজনাটি মূলত মানুষের আত্মিক সংকটের একটি নিবিড় চিত্রায়ন—একক অভিনয়ের শক্তি ও আধুনিক নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে দর্শকদের একটি ভিন্নধর্মী থিয়েটার অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখে। প্রদর্শনীটি সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং শিল্পকলার এই গ্রীষ্মের সন্ধ্যাগুলোতে রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে নির্মাতারা আশাবাদী। আগের প্রদর্শনীর মতোই তারা আশা করছেন, এই মঞ্চায়নও দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।














