সাতক্ষীরা জেলা পরিষদকে জনগণের সেবায় আরও জনমুখী করে গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবাগত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন এবং জেলা পরিষদকে দুর্নীতি মুক্ত, সচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠায় পরিণত করবেন।
হাবিবুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে গত শনিবার (৬ জুন) জেলা পরিষদে যোগদান করেন। এসময় জেলা পরিষদ চত্ত্বরে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে তিল ধারণ করার ঠাঁই ছিল না; অনেকেই ফুল দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। উন্মত্ত উল্লাস ও শুভেচ্ছায় পুরো এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে; নিরাপত্তা বিভাগের কাজ করতে তখন ক৩০ কিছুটা কষ্ট হয় বলে উপস্থিতরা জানান।
দায়িত্ব গ্রহণকালে হাবিবুল বলেন, ‘সাতক্ষীরাবাসীর জন্য আমার অফিস সব সময় খুলে থাকবে। সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমি জেলা পরিষদকে দুর্নীতি-রহিত রাখবো; সচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করব।’ তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে কাজ করার একাধিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
হাবিবুল ইসলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন এবং স্বাধীনতা ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমিসহ আমরা সবাই জিয়ার সৈনিক; তাই দেশের উন্নয়নের জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।’ দেশের বিরুদ্ধে ছত্রছায়ায় থাকা ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় বিএনপি ও জিয়ার সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
অপরদিকে তিনি সাতক্ষীরা জেলার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও নতুন প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। আগামী পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী দিতে হবে এবং দলীয় সকল প্রার্থীকে বিজয় করার নির্দেশ দেবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
হাবিবুল অভিযোগ করেন যে, বিগত জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির ফলে সাতক্ষীরার চারটি আসনে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতের কিছু নেতা ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে; এজন্য জনসচেতনতা জরুরি। দলেন্য পক্ষেও তিনি ভেদাভেদ নয়, ঐক্যের ওপর জোর দেন ও সমাজব্যবস্থার উন্নয়নে everyone কাজ করার আহ্বান করেন।
পরিচয় দিতেঙ্গ্য, হাবিবুল ইসলাম কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশ বিষয়ক সম্পাদক। আগে তিনি সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি সামান্য ভোট ব্যবধানে তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হন।
এক সময় তিনি বলে থাকেন যে কলারোয়া থানায় দায়ের করা একটি মামলায় ৫০ জনকে আসামি করা হয় এবং সেই মিথ্যা মামলায় তাকে ৭০ বছরের সাজা প্রদান করা হয়েছে—যা তিনি ও তাঁর সমর্থকরা অবৈধ ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন।














