ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

মিগুয়েল দিয়াজ‑কানেলসহ কিউবার শীর্ষ নেতাদের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র কিউবার রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ‑কানেল ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে санкশনঅর্ন্তভুক্ত করেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি) তাদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। তালিকায় প্রেসিডেন্ট ছাড়াও তার স্ত্রী লিস কুয়েস্তা পেরাজা, কাস্ত্রো পরিবারের দু’জন সদস্য এবং কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়সহ মোট চারজন ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এক সময় রাউল কাস্ত্রোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০১৮ সালে অফিসভার গ্রহণ করা ৬৬ বছরের মিগুয়েল দিয়াজ‑কানেল কিউবার নেতৃত্বে রয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ওয়াশিংটনের কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপচেষ্টারই একটি সর্বশেষ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মাত্র গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্র কিউবার তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী, প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ও ১১ জন কর্মকর্তাকে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছিল।

নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা সমকালীন কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পদক্ষেপকে ‘নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের একটি বড় উদাহরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বৈরিতার পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে তা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হবে না। কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে এখনও বিস্তৃত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

পেছনের প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে কিউবা থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি গ্রুপের বিমানের ওপর কিউবার যুদ্ধবিমানের গুলির ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল—এই ইতিহাসও দুই দেশের সম্পর্ককে অতীত থেকেই জটিল করে রেখে এসেছে। আরও সাম্প্রতিকভাবে, গত ২২ মে মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করার বিষয়টিকে কিছু পক্ষ তীব্র নিন্দার চোখে দেখেছে; চীন ও রাশিয়াও এই প্রসঙ্গে নিন্দা প্রকাশ করেছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন নিষেধাজ্ঞা কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়াতে পারে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণকে কঠিন করে তুলতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কতটা প্রভাব পড়ে তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।