ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুক্রবার সকালে মহাসড়কের পৃথক দুই স্থানে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলে ও এক চালকসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশ্বর এলাকায়। কসবা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কাউসার মিয়া তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় সরাইল বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দ্রুতগামী মাছভর্তি একটি পিকআপ ভ্যান অটোরিকশাটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে একই পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ালে অটোরিকশা চালক মাহবুব, যাত্রী জোসনা বেগম ও তাদের পাঁচ বছরের ছেলে আশরাফুলের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত কাউসার মিয়া ও তার চার বছরের মেয়ে আদিবাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাড়িউড়া বাজার এলাকায় একটি প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও একজন নিহত হন। নিহতের নাম মো. অলি মিয়া (৫৫)। তিনি সরাইলের পানিশ্বর ইউনিয়নের বরইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেছে। তিনি আরও জানান যে, প্রথম দুর্ঘটনায় পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া পিকআপ ভ্যানটির চালক ও সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে; তাদের এখনও আটক করা যায়নি।
দুটি দুর্ঘটনার পর উক্ত এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। হতাহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা গভীর ব্যথা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রশাসন ও পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে এবং পালিয়ে যাওয়া চালক ও সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।














