ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব অপহরণের ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর আদাবর–শ্যামলী এলাকায় সক্রিয় অপহরণ–ছিনতাই চক্রের সাজিত ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি কয়েক দিন আগে ঘটেছিল। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী সাদমান সাকিব রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আছেন—তখন তিন থেকে চারজন ছদ্মবেশী যুবক দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি সরু গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে থাকা মোবাইল, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরে তার পরিবারের কাছে বিকাশে করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এই অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম। তিনি জানান, টহল পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যাওয়ার সময় সাদমান চিৎকার করলে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে জাহিদ হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়। জাহিদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের নাম ও বয়স হলো: জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) ও মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।
পুলিশ জানায়, এই চক্র সাধারণত ভোরের সময় মোহাম্মদপুর–আদাবর এলাকার বাজারে ব্যবসায়ীরা যখন টাকা-পয়সা নিয়ে ভোগে যান তখনই টার্গেট করত। বিশেষ করে যারা একা থাকতেন তাদের লক্ষ্য করে অপহরণ করার রীতি ছিল। চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারীর নাম এখনও জাহিদ; তার ও আরও দুইজনের নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, বলেছে পুলিশ।
ফজলুল করিম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা করা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত আছে, তারা কোথায় কোথায় একই ধরনের অপরাধ করেছে এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না—এসব খোঁজখবর করা হচ্ছে।
পুলিশ অনুরোধ করেছে যে, যদি এই ধরনের অপরাধে আরও কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন বা অপরিচিত ফোন/মেসেজে মুক্তিপণ দাবি পেয়ে থাকেন তাহলে সংশ্লিষ্ট থানা বা ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে যোগাযোগ করে তথ্য দিতে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।














