আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইরান জাতীয় ফুটবল দল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি কঠোর গোপনীয়তার আড়ালে চালিয়ে নিচ্ছে। তুরস্কের আনতালিয়ার রিসোর্টে তারা আগামীকাল মালির সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে —তবে দর্শক ও সাংবাদিকশূন্য রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানি ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, কোচ দলের কৌশলগত পরিকল্পনা ও ম্যাচ-গেমপ্ল্যান গোপন রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই মাঠে কোনো দর্শক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং দেশি-বিদেশি কোনো গণমাধ্যমকর্মীও উপস্থিত থাকতে পারবে না। ফেডারেশনের বক্তব্য, এর ফলে কোচ তার চূড়ান্ত একাদশ ও খেলোয়াড়দের ভূমিকা সম্পর্কে প্রতিপক্ষকে পূর্বানুমান করতে দেবে না।
তুরস্কে টিম মেলি ইতোমধ্যে দুটি পৃথক অনুশীলন ক্যাম্পে অংশ নিয়েছে এবং সে সফরে মোট তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়ার কাছে হারের পর তারা কোস্টারিকা ও গামবিয়ার বিরুদ্ধে জয় লাভ করে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। মালির বিপক্ষে এই শেষ পরীক্ষায় জয়ের সঙ্গে উত্তর আমেরিকার পথে ভ্রমণ শুরু করাই তাদের লক্ষ্য।
নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান ফেডারেশন ফিফাকে বোঝাতে সক্ষম হয়ে দলের বিশ্বকাপ বেসক্যাম্প স্থল পরিবর্তন করেছে। পূর্ব নির্ধারিত অ্যারিজোনার বদলে তারা মেক্সিকোর টিজুয়ানাকে নতুন ঘাঁটি ও অনুশীলন স্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ফেডারেশন জানিয়েছে, মালির বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ করে আগামী শনিবার দল সরাসরি মেক্সিকো লক্ষ্য করে রওনা হবে।
গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী মেক্সিকোর ঘাঁটি থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে ইরান প্রথমে নিউজিল্যান্ড ও পরে বেলজিয়ামের সঙ্গে খেলবে। গ্রুপ পর্বের সবথেকে প্রতীক্ষিত ম্যাচে সিয়াটলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মোহামেদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিশর।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেও খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখা এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করা দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুদ্ধদ্বার এই প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল, কোচের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও খেলোয়াড়দের ফর্ম এখন খেলার আগ্রহীদের কাছে কৌতূহ্যের বিষয় হয়ে আছে।














