ঢাকা | মঙ্গলবার | ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

১৫ বছরেই আইপিএলে পুরস্কারের বন্যায় ভাসলেন বৈভব সূর্যবংশী

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ১৯তম আসরে রাজস্থান রয়্যালস শিরোপা জেতায় সফল না হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে লক্ষণীয় ছাপ রেখে দিয়েছেন ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে টুর্নামেন্ট জুড়ে যে ধাঁচের ধুকপুক ব্যাটিং দেখিয়েছেন, তা কোটি ভক্তের নজর কাড়েছে এবং মৌসুম শেষে তিনি একগাদা সম্মাননা নিজের ঝুলিতে ভরে নিয়েছেন। প্লে-অফের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটানসের কাছে হেরে রাজস্থান বিদায় নিলেও এই আসর মূলত সূর্যবংশীর নামেই লেখা থাকবে। তাঁর অদম্য সাহস আর বিধ্বংসী হিটই তাকে কিংবদন্তিদের সারির দিকে টেনে তুলেছে।

টুর্নামেন্টে বৈভব ১৬টি ইনিংসে খেলেছেন এবং ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে মোট ৭৭৬ রান সংগ্রহ করেছেন। এই অসাধারণ ব্যাটিংই তাকে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ এনে দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে ক্রিস গেইলের পর তিনিই প্রথম এমন ক্রিকেটার যে এক মৌসুমে একসঙ্গে মোট রানের তালিকায় শীর্ষে থেকেছেন এবং স্ট্রাইক রেটেও সবার উপরে থেকেছেন। তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই রাজস্থান লিগ পর্বে দাপট দেখিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিল।

ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় বৈভব শুধু অরেঞ্জ ক্যাপই পাননি; তিনি এই আসরের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (এমভিপি) এবং ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ অ্যাওয়ার্ডও জয় করেছেন। আইপিএলের ইতিহাসে তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে দুটি এই মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার একসঙ্গে জেতার গৌরব পেলেন। এছাড়া তিনি মোট ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ক্রিস গেইলের এক মৌসুমের ৫৯ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে ‘সুপার সিক্সেস অব দ্য সিজন’ পুরস্কার জিতেছেন এবং ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’ হিসেবেও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

বোলারদের দিক থেকে এবারের আইপিএলে ‘পার্পল ক্যাপ’ জিতেছেন গুজরাট টাইটানসের দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার কাগিসো রাবাদা। ১৭টি ম্যাচে ৯.৬৮ ইকোনমি রেটে তিনি মোট ২৯টি উইকেট নিয়েছেন। এটি রাবাদার আইপিএল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পার্পল ক্যাপ; এর আগে ২০২০ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ৩০টি উইকেট নিয়ে তিনি এই সম্মানটি পেয়েছিলেন। রাবাদার ধারাবাহিক বোলিং ফাইনাল পর্যন্ত গুজরাটের পথচলাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।

পুরস্কার গ্রহণের পরে আবেগপ্রবণ এক প্রতিক্রিয়ায় বৈভব জানিয়েছেন—এ প্রশ্নে অত্যন্ত গর্বিত বোধ করছেন। বড় মঞ্চে প্রথম সাক্ষাৎকারে একটু স্নায়ুচাপ থাকলেও পরবর্তী মৌসুমে আরও ভালো করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন যে এই আসর থেকে শিখেছেন কীভাবে চাপের সময় নিজেকে শান্ত রেখে দলের প্রয়োজন অনুসারে ব্যাট করতে হয়। ইনজুরি এড়িয়ে দীর্ঘকালীন ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে এখন থেকে নিজের ফিটনেস ও মানসিক একাগ্রতার ওপর বিশেষ নজর দেবেন বলেও জানান এই উদীয়মান তারকা।

টুকরো বয়সে এত মাতলিয়া সফলতা ভোগায় ক্রিকেট বোর্ড ও ভক্তদের প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিয়েছে—কীভাবে ভবিষ্যতে এই প্রতিভা সংরক্ষণ ও আরও বিকাশ করা হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।