আইপিএলের ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। গত রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আরসিবি ১২ বল বাঁচিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। বিরাট কোহলির রেকর্ডধর্মী অর্ধশতক ও বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশনায় বেঙ্গালুরু চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পর আইপিএলের ইতিহাসে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া কেবল তৃতীয় দল হয়ে দাঁড়ালো।
ম্যাচে আগে ব্যাট হাতে নেমে গুজরাট টাইটান্স শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। পাওয়ার প্লের মধ্যেই অধিনায়ক শুভমন গিল ও সাই সুন্দরকে হারিয়ে দলের স্কোর ধরে রাখতে কষ্টে পড়তে হয় গুজরাটকে। জস বাটলারও বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি এবং দল বিপর্যয়ের অবস্থায় ঠেকেছিল। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর লড়াই করে গুরুত্বপূর্ণ ৫০ রানের ইনিংস খেলেন, যা গুজরাটকে সামান্য সান্ত্বনা দেয়। শেষ দিকে আরশাদ খান দ্রুতগতিতে ১৫ রান করে টাইমিংয়ে সহায়তা দিলেও গুজরাট ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রানে থামে। বেঙ্গালুরুর পক্ষে তরুণ পেসার রসিখ সালাম তিনটি উইকেট নেন; হ্যাজেলউড ও ভুবনেশ্বর দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৫৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আরসিবি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলার পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্বোধনী জুটিতে ভেঙ্কটেশ আইয়ারের ঝোড়ো ৩২ রানের প্রদানের কারণে দলকে শক্তি ছড়ায়। ইনিংসের মাঝপথে রশিদ খান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে গুজরাটকে ফেরার সুযোগ দেয়, কিন্তু কোহলি ছিলেন ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দু—একপ্রান্ত ধরে রেখে আক্রমণ চালিয়ে গেলেন। ইনজুরির পর ফিরে এসে কোহলি তার আইপিএল ক্যারিয়ারের অন্যতম দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন এবং দলের লড়াইকে এগিয়ে নেন।
বিরাট কোহলি শেষ পর্যন্ত ৪২ বল খেলে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। তার কাঁধে থাকা স্থিরতা ও ক্লিন ফিনিশিংয়ের কারণে আরসিবি ১৮তম ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রানে লক্ষ্যে পৌঁছে জয় নিশ্চিত করে—ম্যাচে ১২ বল হাতে থাকার পর অর্জিত এই জয়ের মুহূর্তে স্টেডিয়াম উদযাপনে মাতোয়ারা হয়। গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার সমর্থক কোহলির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ও দলের সংগ্রামের প্রশংসা করেন।
এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে বেঙ্গালুরু প্রমাণ করেছে তারা এখনই আইপিএলের অন্যতম শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি। তরুণ ও অভিজ্ঞদের সুশৃঙ্খল মিশেলে গড়া তাদের দল পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও ভক্তদের প্রত্যাশা বেঙ্গালুরুর সামনে—আগামী মৌসুমে তারা এই ধারাকে ধরে রেখে হ্যাটট্রিক শিরোপা তৈরির লক্ষ্যে আবারও মাঠে শক্তভাবে নামবে।














