আইপিএলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী রাজস্থান রয়্যালসের ত্রাস, বৈভব সূর্যবংশী। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের ধূংসস্তুপ খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ম্যাচে তার ১২টি ছক্কা এবং সিজনে মোট ৬৫টি ছক্কার পরে তিনি ২০১২ সালে ক্রিস গেইলের করা ৫৯ ছক্কার রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিলেন। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ উপাধি দিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের অভিবাদন জানানো হয় — গেইলের ‘ইউনিভার্স বস’ উপাধির যুব সংস্করণ হিসেবে।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামার পর থেকেই বৈভব হায়দরাবাদের বোলিং লাইন-আপকে তাণ্ডবে ঢেলে দেন। প্যাট কামিন্স এবং সাকিব হোসেনের মতো অভিজ্ঞ বোলারদেরও তিনি দিশাহীন করে তুলে মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন — প্লে-অফ ইতিহাসে এটি যৌথভাবে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ড। দ্রুতগতির এই ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ছিল আশ্চর্যজনক ৩৩৪.৪৮। মাত্র ৩ রানের জন্য ২০১৩ সালে গেইলের করা ৩০ বলের দ্রুততম সেঞ্চুরি ভাঙতে পারেননি, তবু গ্যালারিতে উন্মাদনার ঝড় তোলেন তিনি।
ইনিংসের প্রথম ৬ ওভারে, অর্থাৎ পাওয়ার প্লে-তেই বৈভব একাই ৮টি ছক্কা মেরেছেন — যা আইপিএলে পাওয়ার প্লে-তে এক ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ড। এইভাবে তিনি লঙ্কান কিংবদন্তি সনাথ জয়াসুরিয়ার ২০০৮ সালের ৭টি ছক্কার রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। তার ঝড়ো শুরুই রাজস্থানকে ম্যাচে বিশাল সংগ্রহ তৈরি করার ভিত্তি দিয়েছে এবং প্রতিপক্ষ বোলারদের মানসিকভাবে ভুগিয়েছে।
ব্যক্তিগত এবং আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানেও বৈভবের ধাক্কা বেজায় বড়। টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে মাত্র ৫১৫ বল খেলেই ১০০টি ছক্কা পূরণ করে তিনি এই রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন — দ্রুততম হিসেবে নতুন কৌতুক। এছাড়া আইপিএলের ইতিহাসে ২০ বলের কম সময়ে হাফ-সেঞ্চুরি করে পাঁচবারের কীর্তি সামনে রেখে তিনি নিকোলাস পুরানের সঙ্গে সমানে অবস্থান করছেন; এই তালিকায় কেবল অভিষেক শর্মা (৬ বার) তাঁদের ওপরে আছেন।
বৈভবের ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে বলছে, এটি কোনো এক ম্যাচের জাদু নয় — ভবিষ্যৎকালে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেট বিশ্বের শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা রাখেন। তরুণ এই ব্যাটসম্যানের আত্মবিশ্বাস, গতিসহ ক্ষমতা এবং শীতল মস্তিষ্ক তাকে আরও বড় রেকর্ড স্পর্শ করাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সংক্ষেপে, ঐতিহাসিক এই পারফরম্যান্স আইপিএল এবং বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক বিস্ময় হিসেবে রেকর্ডে নাম লেখাল। সবচেয়ে কম বয়সী একজন হিসেবে এসব অর্জন পেয়ে বৈভব সূর্যবংশীর প্রশংসা শিরোধার্য হচ্ছে—আগামী মৌসুমে তার নাম আরো অনেক বড় রেকর্ড তালিকায় দেখা যেতে পারে।














