ঢাকা | শুক্রবার | ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে কোরবানি চলছে

পবিত্র ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুধু প্রথম দিনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি — ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানি চলে। শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকেই মিরপুর, বাংলামোটর, হাতিরপুলসহ রাজধানীর নানা এলাকায় দেখা যায় পরিবারের সদস্যরা পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত। অনেকেই ভোর থেকেই পাড়া-মহল্লার নির্ধারিত স্থানে শর্তমতো কোরবানি করছেন; যদিও প্রথম দিনের তুলনায় কোরবানির পরিমাণ কম, তবু উৎসবের শোভা বজায় আছে।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে কোরবানি করার অনুমতি থাকায় অনেকে দ্বিতীয় দিনটিকে বেছে নেন। বিশেষ করে কসাই সংকট ও প্রথম দিনের জ্যামের কারণে অনেক পরিবার কোরবানির সময় এগিয়ে নেয়নি — কসাইদের খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়া এবং অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দাবির কারণে অনেকে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি এড়াতে এক দিন পিছিয়ে আজ কোরবানি সম্পন্ন করছেন। মিরপুরের একজন বাসিন্দা বলেন, ঈদের প্রথম দিনে কসাই পাওয়া দুষ্কর ছিল ও যারা আসতে চেয়েছেন তারা আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক চাইছিলেন, তাই ঝক্কি এড়াতে তিনি আজ কোরবানি করার সিদ্ধান্ত নেন।

কিছু ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা একাধিক পশু কোরবানি করেন, তারা প্রথম দিনে বড় পশু জবাই করে আজ বাকি কোরবানি সম্পন্ন করছেন। আবার বহু পরিবারের মধ্যে পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে দ্বিতীয় দিনে কোরবানি করার প্রথাও দেখা গেছে।

সকাল থেকেই রাজধানীর অলিগলিতে মাংস কাটা ও পরিষ্কার করার সরঞ্জাম নিয়ে কসাই ও মৌসুমি শ্রমিকরা ব্যস্ত ছিলেন; প্রথম দিনের তুলনায় চাপ কম থাকায় তারা শান্তি ভঙ্গ না করে কাজ করতে পেরেছেন। তবে মাংস প্রস্তুতকালে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং পরবর্তী পরিবেশ দূষণ না ঘটানো নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্নতাকর্মিরাও মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

গ্রামগঞ্জ থেকেও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল — শহর-গ্রাম মিলিয়ে ত্যাগের এই মহিমা ছড়িয়ে পড়ছিল। যারা কোরবানি করছেন, তারা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে মাংস বণ্টনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। ধর্মীয় বিধানের এই নমনীয়তা শুধু ইবাদত পালনকে সহজ করছে না, মাংস সংরক্ষণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও সাহায্য করছে। কিছু স্থানে আগামীকাল শনিবারও কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।