দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ৭০ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে) হাম ও উপসর্গে মোট ৫১২ জনের মৃত্যু ঘটেছে—এটি চলতি বছরে কোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। শনিবার (২৩ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, একদিনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ ধরা পড়ে। একই সময় বরিশালে হাম শনাক্ত হয়ে ১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে একই সময়ে ঢাকায় চার, চট্টগ্রামে দুই, সিলেটে চার, বরিশালে এক ও ময়মনসিংহে এক শিশুর মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মোট ৪২৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে; এদের মধ্যে ৮৬ জনের মৃত্যু ছিল পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৬২,৫০৭ শিশুর মধ্যে। এ সময় ৪৯,৩৮৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৪৫,০১১ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
সংক্রমণ দেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে; ৫৮ জেলায় ইতোমধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। বিশেষত পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি হয়ে উঠেছে। দেশের মৃত্যুহার বর্তমানে প্রায় ০.৯৮ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, ইয়েমেন, মেক্সিকো, অ্যাঙ্গোলা, কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সুদান, ক্যামেরুনসহ অনেকে দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে; এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো উন্নত দেশেও হাম ফিরে এসেছে। কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যার বেশি হওয়ার কারণে বিশ্ব সম্প্রদায় বর্তমানে বাংলাদেশকে নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে মৃত্যুহারের উচ্চতার পেছনে কয়েকটি কারণ দায়ী—নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, দীর্ঘদিন এমআর (হাম-রুবেলা) ক্যাম্পেইনের শিথিলতা, শিশুর অপুষ্টি, হাসপাতালে দেরিতে পৌঁছানো এবং দরিদ্র অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সীমিততা। অপুষ্টির কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে হাম জটিলতায় দ্রুত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবও রোগনিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলছে।
সংক্রামকতার মাত্রা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তারা দ্রুত টিকাদান শুরুর পাশাপাশি পুষ্টি সুরক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধির এবং ত্বরিত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যাতে শিশুদের জীবন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।














