সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাত বনদস্যু কোস্টগার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের চত্বরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে তারা ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের সময় কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বনবিভাগ, র্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন থেকে দস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানের ফলে গত ১৭ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোংলার নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রথমে আত্মসমর্পণ করা হয়; সেই সময় ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে সদর দপ্তরে তাদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
আত্মসমর্পণকারী সাতজনের মধ্যে রয়েছেন বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও রামপালের মাহফুজ মল্লিক (৩৪)।
বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সালে তারা একবার র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করে সংসার চালাচ্ছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তার-নির্যাতনের শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে আবারও গরিলা কার্যক্রমে ফিরে যেতে হয়েছে। এখন সুযোগ দেখে তারা আবার আত্মসমর্পণ করেছেন এবং সরকারের কাছে দাবি, তাদের মামলা সহজ করে দেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে হয়রানির শিকার না হতে যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেজবা উল ইসলাম জানান, অঞ্চলকে নিরাপদ করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বন্দুক-গুলিসহ সশস্ত্র চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে। তারা বলেন, আত্মসমর্পণ করে যারা আইন মেনে চলতে চাইবে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ হবে, অপরদিকে সশস্ত্র অপরাধ দমন করা হবে বিধানানুযায়ী।














