ঢাকা | বুধবার | ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

জালিয়াতি ঠেকাতে ব্যাংক কার্ড‑এমএফএস তথ্যের মিল বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক জালিয়াতি রোধে ব্যাংক কার্ড থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস)-এ ‘অ্যাড মানি’ করার সময় কার্ডধারীর নাম ও এমএফএস অ্যাকাউন্টের নাম অবশ্যই মিলিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে। নতুন নির্দেশনা আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং শিগগিরই পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ একটি বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি বাইপাস করে সাইবার অপরাধীরা প্রায় ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তদন্তে দেখা গেছে, অপরাধীরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ও ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই কার্ড থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছিল। ওই ঘটনার পর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সাময়িকভাবে কার্ড থেকে এমএফএস-এ লেনদেন বন্ধ করতে হয়েছিল।

নতুন নিয়মে স্পষ্ট বলা হয়েছে: কার্ড থেকে এমএফএস-এ অর্থ যোগ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এমএফএস অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই কার্ডধারীর নিজ নামে নিবন্ধিত থাকতে হবে। তবে প্রয়োগের সময়সীমা পর্যন্ত (আগস্ট নাগাদ) সাময়িক কড়াকড়ি দেওয়া হয়েছে — এক ব্যক্তি অন্য এমএফএস-এ টাকা পাঠাতে পারলে প্রথমে কার্ড সংযুক্তির সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ করতে হবে। ওই টোকেন লেনদেন সফল হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরে শুধুমাত্র তখনই ঐ কার্ডটি ওই এমএফএস অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে। এই ব্যবস্থা জালিয়াতি রোধে একটি প্রাথমিক নিরাপত্তা হিসেবে চালু করা হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে বলা হয়েছে, ব্যাংক কার্ড থেকে এমএফএস-এ অর্থ স্থানান্তরকে এখন থেকে ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ নয়, ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। লেনদেনের সময় বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর কার্ড ইস্যুকারী ব্যাঙ্কের কাছে দৃশ্যমান থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে, তবে ১ আগস্ট থেকে ওই কার্ডগুলোর মাধ্যমে অ্যাড মানির সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে এই পদক্ষেপ ব্যাংক ও এমএফএস খাতের সামগ্রিক নিরাপত্তা বাড়াতে ও গ্রাহকের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও এমএফএসগুলোকে দ্রুত এই প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল সমন্বয় কার্যকর করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরনের জালিয়াতির সুযোগ সীমিত করা যায়।