ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

চাঁদপুরে তারেক রহমান: নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সীমিত করবে জনগণ

চাঁদপুরে সমাবেশে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির সমস্ত ষড়যন্ত্র জনগণ রুখে দেবে। শনিবার (১৬ মে) বিকাল পৌনে ৫টায় শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে — খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীভাতা এবং বৃক্ষরোপণ অভিযান। এমন সময়ে কিছু মানুষ এই উদ্যোগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা ছড়াচ্ছে এবং বিরোধীতা করছে। তিনি বলেন, মানুষ যতোক্ষণ সমর্থন দেবে, বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করে যাবে; অঙ্গীকারগুলো এক এক করে বাস্তবায়িত হবে।

তারেক রহমান কটাক্ষ করে বলেন, যদি কেউ এসব কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, আমরা কিছুই করব না—বাংলাদেশের মানুষই তাদের পরিকল্পনা রুখে দেবে। তিনি সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেন, সবাই মিলে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে যাতে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড প্রদান এবং বেকারদের চাকরি-সংক্রান্ত কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে। তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম যাতে smoothly চলে তার জন্য জনমত ও সতর্কতা প্রয়োজন।

দেশ পুনর্গঠনের তাগিদও তিনি তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধুরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা আনলো, এখন সেই দেশ গড়ে তোলার পালা—আমরা একসাথে এই দেশকে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব, বলেন তারেক। তিনি বলছেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই; তাই ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি জনগণের সঙ্গে মিলিয়ে শুরু করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বাড়ানো, নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্য-সেবা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা হয়।

চাঁদপুর ছাড়াও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম ও তাসলিমার হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন তিনি।

দুপুরে টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজারে ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের স্থানে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রীর। ফলক উন্মোচনের পর খালের তীরে নিজে কোদাল হাতে মাটি কাটেন এবং পরে খাল পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন। সূত্রে বলা হয়, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই খাল খনন করেছিলেন; ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনরায় খনন করলেন তাঁর ছেলে তারেক রহমান।

সমাবেশে তিনি এক সাধারণ কৃষক সাইফুল ইসলাম লিটনকে ডেকে নিজের পাশে বসিয়ে তার সমস্যা ও অভিজ্ঞতা মনোযোগ দিয়ে শুনেন। কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে বিয়াক্ত করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন ও প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে ঘিরে জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়; দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। সভায় চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরেকটি প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে কুমিল্লার বিষয়টিও স্থান পেল। তিনি বলেন, জনগণের দাবি ও প্রয়োজন থাকলে কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের প্রদত্ত ম্যান্ডেট অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে—যদি সবাই একমত হন, কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে হাজারো সমর্থক করতালে তাকে স্বাগত জানান; সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল-সমাবেশে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জড়ো হতে থাকেন। তারেক রহমান পুনরায় বলেন, মানুষের সামনে উপস্থাপিত যেসব পরিকল্পনা ছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে এবং মানুষের দেওয়া ভোটে যে আস্থা এসেছে, তা কাজে রূপান্তরিত করা হবে।