মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি রয়েছে তা এখন কঠোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই ঘটনার বিস্তারিত পরিবেশনা করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার ট্র্যাকটিতে তেহরান কয়েকটি কড়া দাবি তুলেছে — সংঘাতের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, মার্কিন দ্বারা আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিশ্ব বাণিজ্যের মুখ্য প্রবাহ হরমুজ প্রণালী বিষয়ে ইরানের সার্বভৌমত্বের আইনি স্বীকৃতি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব দাবিকে একেবারে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এসব অনুচিত ও অনাবিল দাবি ‘আবর্জনা’ এবং ৭ এপ্রিল থেকে চালু থাকা ওই স্বল্পকালীন শান্তি বজায় রাখার পথকে তারা বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন যে চুক্তির টিকিটাই এখন ঝুঁকির মুখে আছে।
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব দ্রুতই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় কাঁচা তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের ওপর উঠে যায়, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে; এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য মূলত যারা অবৈধভাবে ইরান থেকে চীনে তেল রপ্তানি নিয়ে যার সঙ্গে যুক্ত তাদের ওপর।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে তেহরান জানিয়েছে, তাদের দাবিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ন্যায্য এবং যে কোনো বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে দ্রুত কোনও সম্মানজনক সমঝোতা না হলে তারা আবারও কঠোর সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গুর ও অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। কূটনৈতিক মঞ্চে লাগাতার চাপ ও তীব্র বক্তব্য শুধুমাত্র পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে — ফলে সাম্প্রতিক শান্তিচেষ্টা কতটা স্থায়ী হবে, তা এখন অনিশ্চিত।













