ঢাকা | মঙ্গলবার | ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মিরপুরে শেষ দিনের নাটকের অপেক্ষায় বাংলাদেশ—পাকিস্তান

ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে লড়াই এসে দাঁড়িয়েছে রোমাঞ্চকর মোড়ে। দিনের বড় অংশ বৃষ্টিবাতিল ও আলোকস্বল্পতার কারণে নষ্ট হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো বাংলাদেশিদের হাতেই। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছে এবং হাতে থাকবে আরও ৭ উইকেট; ফলে স্বাগতিকদের বর্তমান লিড দাঁড়িয়েছে ১৭৯ রানের। এখন সব কিছুই পঞ্চম এবং শেষ দিনে নির্ধারিত হবে।

ম্যাচের গতিবিধি শুরু থেকেই ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের শক্ত ভিত্তি গড়ে দেয়; জবাবে পাকিস্তান ৩৮৬ রানে থামে। প্রথম ইনিংসের শেষে বাংলাদেশ মাত্র ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেও চতুর্থ দিনের সকালে দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে টাইগারদের পরিস্থিতি খানিকটা ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে যায়।

তবে ছিলেন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান—নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। তাদের ধৈর্যশীল এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং বাংলাদেশকে স্থায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে সাহায্য করে। শান্ত-মুমিনুলের কল্যাণে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর থেকে চাপ যেন খানিকটা ক্রমশ সরতে থাকে।

লাঞ্চের পরই খেলা থমকে যায়, বৃষ্টি এতটাই তীব্র হয় যে ম্যাচের দ্বিতীয় সেশন পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বৃষ্টি বিঘ্নিত হওয়ায় রান বাড়ানোর গতি slowdown হয় এবং ম্যাচ ড্রয়ের সম্ভাবনাও সম্মুখে আসে।

চা বিরতির পর খেলা আবার শুরু হয়, কিন্তু আকাশ মেঘলা থাকায় আলোর মান দ্রুত কমে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আম্পায়াররা নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন। ফলে নির্ধারিত ওভারগুলোর বড় অংশ মাঠে গড়ায়নি এবং দিন শেষ হয় বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৫২ রানে পৌঁছে।

টাইগার শিবিরের লক্ষ্য এখন পঞ্চম দিনের সকালেই দ্রুত কিছু রান যোগ করে লিড বাড়িয়ে নেওয়া, যাতে পাকিস্তানের সামনে চতুর্থ ইনিংসে চাপজনক লক্ষ্য দাঁড় করানো যায়। বিপরীতে পাকিস্তান দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে লিড বাড়ানো রোধ করতে চাইবে এবং ম্যাচ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

মিরপুরের উইকেট সাধারণত স্পিন-বান্ধব; শেষ দিন যদি গরম ও শুকনো থাকে তবে স্পিনারের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে আবহাওয়া এখানে বড় ভূমিকা রাখছে—বৃষ্টিপূর্বাভাসে যদি খেলায় বিঘ্ন ঘটে তবে ম্যাচের ফলাফলে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাবে।

সব মিলিয়ে পঞ্চম দিনই হবে শেষ সিদ্ধান্তকর্তা। দর্শকরা যদি আকাশ থেকে রেহাই পান, তবে মিরপুরে এক উত্তেজনাপূর্ণ শেষ দিন দেখার সম্ভাবনা আছে—চায়ের পর থেকে নয়, বরং পুরো দিনের নাটক আমরা দেখতে পাব বলে আশা করা যায়।