বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘স্ত্রীর পত্র’ অবলম্বনে নির্মিত বিশেষ টেলিভিশন নাটকে ‘মৃণালিনী’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তরুণ অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মাতা অরুণ চৌধুরীর পরিচালনায় এবং চিত্রনাট্যে তৈরি এই নাটকটি আগামীকাল ২৫শে বৈশাখ (৮ মে) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আই-তে প্রচারিত হবে। নাটকটি নারী জাগরণ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার এক শক্তিশালী আখ্যান হিসেবে পাঠকদের সামনে আসছে।
গল্পটির মূলভাব পুরুষতান্ত্রিক বন্ধন ভেঙে এক নারীর আত্মসচেতনতা ও প্রতিবাদের সাহস—এটাই নাটকের কেন্দ্রীয় থিম। পনেরো বছরের বৈবাহিক জীবনের পর মৃণালিনী এক চিঠির মাধ্যমে তাঁর অতিচাপা থাকা বেদনা, অহঙ্কার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। বিন্দু নামে এক অসহায় কন্যার করুণ পরিণতি মৃণালিনীর অভ্যন্তরীণ জাগরণকে ত্বরান্বিত করে এবং তিনি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নেন। এই ব্যক্তিগত লড়াই ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা সমসাময়িক সমাজেও গভীর প্রাসঙ্গিকতা বহন করে।
নাটকটির শুটিং হয়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জের মনোরম বিভিন্ন লোকেশনে। মৃণালিনীর গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী ‘বিন্দু’ চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনিকা কবির শখ। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন আরেফিন জিলানী, সূচনা শিকদার, তূর্য ও নয়ন। নির্মাতা অরুণ চৌধুরী বলছেন, রবীন্দ্রর ধ্রুপদী সাহিত্যের মর্যাদা বজায় রেখে তৎকালীন পরিবেশ সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে নির্মাণশৈলী ও কারিগরি দিকগুলোতে বিশেষ যত্নশীল ছিলেন তারা।
মৃণালিনী চরিত্রে অভিনয়কে নিয়েও উচ্ছ্বসিত সামিয়া অথৈ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের এমন এক শক্তিশালী চরিত্রে কাজ করা যে কোনও অভিনেত্রীর জন্য গর্বের বিষয়। মৃণালিনীর ভেতরের দ্রোহ ও শোক ফুটিয়ে তোলা আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল এবং আমি নির্মাতার কাছে কৃতজ্ঞ।’ নির্মাতা অরুণ চৌধুরী যোগ করেন, ‘রবীন্দ্রর গল্পগুলো সবসময় আমাকে টানে। ‘স্ত্রীর পত্র’ আধুনিক যুগের নারীর কাছেও এক জোরালো বার্তা বহন করে। শিল্পীদের পরিশ্রমী অভিনয় নাটকটিকে প্রাণবন্ত করেছে।’
নাটকটি শুধু ব্যক্তিগত মুক্তির গল্প নয়—এটি নারীর সম্মান ও মর্যাদার প্রতি রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুনভাবে আলোচ্য করে তোলে। রবীন্দ্রজয়ন্তীর এই বিশেষ আয়োজনটি দর্শকদের কাছে ধ্রুপদী প্রযোজনার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।
সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীরা মনে করেন, রবীন্দ্রপ্রেমী দর্শকদের পাশাপাশি সাধারণ নাট্যপ্রেমীরাও এই নাটকটিকে সাদরে গ্রহণ করবেন। নাটকটি রবীন্দ্র সাহিত্যের গভীরতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নারীর স্বাধীনতা ও আত্মসন্মানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।














