ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

দেশভাগকে কেন্দ্র করে চঞ্চলের ‘আজাদি’ — সঙ্গী কলকাতার পৌলমী

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ওপার বাংলার সিনেমায় নিজের অবস্থান আরও মজবুত করছেন। ব্রাত্য বসুর ‘শেকড়’ চলচ্চিত্রের পর এবার তিনি খ্যাতনামা পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়ের পরিচালিত ‘আজাদি’ ছবির কাজ শেষ করেছেন। ছবিতে প্রথমবারের মতো চঞ্চলের বিপরীতে জুটি বেঁধেছেন কলকাতার উঠে আসা অভিনেত্রী পৌলমী দাস। প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চে সিনেমাটির শুটিং সফলভাবে শেষ হয়েছে।

‘আজাদি’ মূলত ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে পটভূমি করে নির্মিত। গল্পে তৎকালীন কলকাতা ও ঢাকার সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াত ও কর্মস্থল স্থানান্তরের জটিলতা মনোযোগের সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একই সময়ে দুই বাংলার মানুষের উৎখাত ও স্থায়ী করে ওঠার সংগ্রামের মাঝেই উঠে আসে একটি রহস্যময় খুন—যার সূত্রেই গল্প এগোয়।

চঞ্চল চৌধুরী এই ছবিতে ‘সেলিমউল্লাহ’ নামের একজন মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা পালন করেছেন। তার চরিত্রের মূল চ্যালেঞ্জ হবে সেই হিংসাত্মক ও অশান্ত সময়ে ঘটেছিল এমন এক রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের সূত্র পেতে পারা এবং ন্যায়ের খোঁজে তদন্ত চালানো। পরিচালক ও টিমের কথায়, চরিত্রটি মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে গভীর, এবং রহস্য অংশটি দর্শককে টানাসাঁকশে রাখবে।

চঞ্চল নিজে ছবিটি নিয়ে আশাবাদী; তিনি বলছেন, এটি ইতিহাসের সঙ্গে গভীর মানবিকতা ও সাসপেন্সকে যুক্ত করার চেষ্টা। অন্যদিকে, ছোট পর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিত্তির বাড়ি’ থেকে পরিচিতি পাওয়া পৌলমী দাস প্রথমবারের মতো চঞ্চলের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন ‘আজাদি’ তার জন্য নতুন ধাঁচের রোল ও দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা বয়ে আনবে।

চলচ্চিত্রটির কারিগরি কাজ শেষের পথে; বর্তমানে ডাবিং ও পোস্ট প্রোডাকশনের শান্ত ধাপ এগোচ্ছে। নির্মাতা ও প্রযোজনা জানায়, চলতি বছরে মুক্তির পরিকল্পনা আছে, তবে প্রথমে ছবিটিকে কিছু নামকরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও রহস্যের সংমিশ্রণে তৈরি ‘আজাদি’ দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহ জাগিয়েছে এবং মুক্তির আগে এটি নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।