উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ১-১ ড্র করে মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো থেকে লন্ডন ফিরে গেল আর্সেনাল ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। বুধবার রাতে খেলাটি জমে ওঠে—অভিনব মুহূর্ত, পেনাল্টি বিতর্ক ও শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট করে নেওয়া। দুই দলই পেনাল্টি থেকে গোল করায় শিরোপার কুলকিনারা এখন পুরোপুরি ফিরতি লেগে নির্ধারণ হবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের লড়াই চলে। ১৪ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের একটি ঝাঁপিয়ে শট আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া দুর্দান্তভাবে রুখে দেন। আর্সেনালও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বিপদ সৃষ্টিতে ছিল—মার্টিন ওডেগার্ড ও ননি মাদুয়েকে কয়েকটি উজ্জ্বল সুযোগ তৈরি করলেও লক্ষ্যভেদের আগে তা থেমে যায়।
প্রথমার্ধ শেষ ہونےের আগে ৪৪ মিনিটে ভিক্টর গিওকেরেস বক্সে ফাউলের শিকার হন এবং রেফারি স্পট কিকে নির্দেশ দেন। বাড়তি চাপ সামলে স্পট কিকটি সফল করে গানাররা বিরতিতে ১-০ এগিয়ে যায়।
বিরতির পর অ্যাতলেটিকো ছক কষে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে। ৫৬ মিনিটে আর্সেনালের ডিফেন্ডার বেন হোয়াইটের হাতে বল লাগার পরে ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টি দেন। স্পট কিক থেকে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করে ম্যাচ ১-১ করান—এটি চলতি মৌসুমে এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের দশম গোল বলে জানানো হয়েছে।
সমতায় ফিরে অ্যাতলেটিকো আরও আক্রমণ বাড়ায় এবং আর্সেনালের রক্ষণভাগকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। তারা বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে—আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের একটি শক্ত শট ক্রসবারে লেগে ফিরে যায়। ৭৪ মিনিটে আদেমোলা লুকমান একক পরিস্থিতিতে রায়াকে পরাস্ত করতে পারেননি, যা স্বাগতিকদের জন্য বড় সুযোগ হতে পারত।
ম্যাচের শেষ অংশে আর্সেনালের জন্যও নাটকীয় মুহূর্ত আসে। এবেরেচি এজে যখন বক্সে ফাউলের শিকার হন, তখন রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন; তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ১-১ এ থেমে যায়।
পরিসংখ্যানে অ্যাতলেটিকো কিছুটা-বেশি আধিক্য বজায় রেখেছিল—বল দখলে তারা আনুমানিক ৫২ শতাংশ রেখে ১৮টি শট নেয়, যার মধ্যে চারটি লক্ষ্যে গিয়েছিল। বিপরীতে আর্সেনাল দুইটি শটকে লক্ষ্যে পরিণত করতে সক্ষম হয়।
এখন দুই দলের ফোকাস পুরোপুরি ফিরতি লেগের ওপর। আগামী মঙ্গলবার এমিরেটস স্টেডিয়ামে লন্ডনে তারা মুখোমুখি হবে, যেখানে গৃহকর্তাদের মাঠে জিতেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করাই প্রত্যেক দলের প্রধান লক্ষ্য হবে।














