ঢাকা | সোমবার | ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মে দিবসে মহিলা সমিতিতে বটতলার ‘বন্যথেরিয়াম’—জোড়া প্রদর্শনী

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ১ মে রাজধানীর মঞ্চপ্রীতি নতুন এক অনুষ্ঠানে প্রাণ পাবে—বটতলা থিয়েটারের আলোচিত নাটক ‘বন্যথেরিয়াম’長 জোড়া প্রদর্শনীতে মঞ্চস্থ হবে। বেইলি রোডস্থ মহিলা সমিতি মিলনায়তনে ওই দিন নাট্যপ্রদর্শনী দু’টিই অনুষ্ঠিত হবে—প্রথম কিস্তি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে এবং দ্বিতীয় কিস্তি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। দীর্ঘ সময়ের বিরতির পর এই নাটকটির মঞ্চায়ন হতে যাওয়ায় থিয়েটারপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আকর্ষণ দেখা দিয়েছে।

নাটকটির ভিত্তি সুকুমার রায়ের কালজয়ী কাব্য ও গল্পসম্ভারের ওপর; ‘হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি’ থেকে অনুপ্রাণিত করে নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন ইভান রিয়াজ। প্রকৃতি ও প্রাণরক্ষার পক্ষে একটি ন্যায়সংগত, আর মানুষভিত্তিক বাণিজ্যিক লোভের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ হিসেবে এই প্রযোজনা গড়ে উঠেছে। নির্দেশক ২০১৬ সালে সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে বিভিন্ন ছড়া ও কাহিনীর উপাদান মিলিয়ে নাটকটির বিশেষ পাণ্ডুলিপি রচনা করেন; পর্যায়ক্রমে রূপক চরিত্র ও আবহরঞ্জনার মাধ্যমে পরিবেশ বিনাশী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ‘ওয়াইল্ড ভিশন’ নামের একটি প্রাণিবিজ্ঞান সংগঠনের চারপাশে। তারা হঠাৎ এক অদ্ভুত প্রজাতির—ট্যাঁশ গরু—সন্দেহভাজন প্রাণীর সন্ধান পায়। প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট হারু প্রাণীটিকে বন্দি করে আনার নির্দেশ দিলে বন্যপ্রাণী ব্যবসায়ী মিস হুক্কি আরও বেশি মুনাফার আশায় উদ্যোগী হন। একই সময়ে প্রফেসর হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ভাগনে চন্দ্রখাই তাদের কাছে প্রফেসরের রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প শোনায়। মুনাফার লোভে হারু ও মিস হুক্কি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার কথা ভুলে গিয়ে নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ বানানোর স্বপ্নে মগ্ন হয়ে ওঠেন—এতে করে বর্তমানে করপোরেট লোভের যে চিত্র দেখা যায়, সেটাই নাটকে জীবন্তভাবে ফুটে ওঠে।

নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর ব্যতিক্রমী ভঙি ও আবেগ্য অভিনয়ে মঞ্চভর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে। প্রধান শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন মাহবুব মাসুম, মোহাম্মদ আলী হায়দার, সুমিত তেওয়ারি রানা, আশরাফুল ইসলাম অশ্রু, লায়কা বশীর, তৌফিক হাসান ভূঁইয়া ও হাফিজা আক্তার জুনা। তাঁদের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত জেঈরান জুহী, লোচন পলাশ, সবুজ সরকার ও কাজী রোকসানা রুমা—এসব প্রতিভাবান শিল্পীর মিলিত প্রয়াসে নাটকটি জীবন্ত ও দর্শনীয় হয়েছে। মঞ্চসাজ, আলোকসজ্জা ও সঙ্গীতের সংযোজন গল্পকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং দর্শকের মনে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে গভীরভাবে চুম্বক করে তুলেছে।

বটতলা নাট্যদল ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করে, এবং গত দেড় দশকে ‘ক্রাচের কর্নেল’, ‘সখী রঙ্গমালা’, ‘খনা’-র মতো দর্শকপ্রিয় প্রযোজনায় পরিচিতি পেয়েছে। ‘বন্যথেরিয়াম’ তাদের অন্যতম আলোচিত মঞ্চায়ন; এর সর্বশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের আগস্টে। আয়োজকরা আশা করছেন, মে দিবসের ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন, বিশেষত শিশুরা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে সুকুমার রায়ের কল্পনাপ্রসূত ও ব্যঙ্গাত্মক জগতের এই আধুনিক মঞ্চায়ন উপভোগ করবে। পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।