বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত আছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননে একাধিক বিমান হামলা ও শেলিংয়ে অন্তত ছয়জন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ‘‘ইয়েলো লাইনের’’ উত্তরে অনেক স্থান লক্ষ্য করে হামলা করেছে এবং ওই এলাকাগুলো হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তৎপরতায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইলে তারা ছয়জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে মারা ফেলেছে—তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া হতাহতের সঙ্গে সেটা কি মিলছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে নিহতদের মধ্যে ওয়াদি আল-হুজাইরে দুইজন, টৌলিনে দুইজন এবং স্রিফা ও ইয়াতের প্রত্যন্ত দুটি এলাকায় একজন-একজন থাকছেন।
সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রম বাড়ার খবরও পাওয়া গেছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকটকে আরও জটিল করেছে। দক্ষিণ লেবাননজুড়ে দিনজুড়েই বিস্ফোরণের শব্দ ও গোলাবর্ষণের খবর মেলে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধিকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে না—এমন অবস্থায় চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত সম্পূর্ণ থামবে কি না তা অনিশ্চিত। ড্যানন অভিযোগ করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিয়মিতভাবে যুদ্ধবিরতি ব্যাহত করছে এবং ইসরায়েলকে আত্মরক্ষায় জবাব দিতে হচ্ছে।
একই সময়ে লেবাননের দিক থেকেও উদ্বেগের খবর এসেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) জানিয়েছে, ২৯ মার্চ তাদের এক ইন্দোনেশিয়ান শান্তিরক্ষীকে হামলায় আহত করা হয়েছিল এবং প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে ওই হামলায় একটি ট্যাংকের গোলা ব্যবহৃত হয়েছিল—যা ইসরায়েলি ট্যাংকের বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই শান্তিরক্ষী পরবর্তীতে হাসপাতালে মারা যান।
সামরিক তল্লাশি-ওড়ালে ঘটনার মাঝে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে ঘোষিত হয় ইতিমধ্যে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা।
হিজবুল্লাহকে ওভাল অফিসে কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি ছিল না; তারা ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘‘দখলদার’’ আখ্যা দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অধিকার দাবি করেছে। ইসরায়েলি কূটনীতিকেরা হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার ওপর জোর দিয়েছেন, সেনা প্রত্যাহারের বদলে সংগঠনটির কার্যক্রম স্তব্ধ করার উপরে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
মিডিয়ায় পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৯১ জন। প্রথম দফার যুদ্ধবিরতির সময় সহিংসতা কমে গেলেও দক্ষিণে ইসরায়েলি হামলা ও আগ্রাসন এখনও বিরাম পাচ্ছে না, এবং সেখানে একটি স্বঘোষিত ‘‘বাফার জোন’’ নিয়ন্ত্রণেও আছে বলে খবর পাওয়া যায়।
ট্রাম্প ও শীর্ষ আমেরিকান কূটনীতিকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে তিন সপ্তাহের বিরতিতে লেবানন ও ইসরায়েলের নেতারা আরও বৈঠকে বসবেন এবং ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খোলা হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা এই আশা বাস্তবে পরিণত হবে কি না, তা অনিশ্চিতই রয়ে গেল।













