ঢাকা | শনিবার | ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সামাজিক সুরক্ষার জন্য ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) ডলারের ঋণ অনুমোদন করল এডিবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার (২৫০ মিলিয়ন) ঋণ অনুমোদন করেছে। এই ঋণ শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ‘সেকেন্ড স্ট্রেংদ্যানিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর ‘সাব-প্রোগ্রাম ২’-র আওতায় মঞ্জুর করা হয়।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ঝুঁকি, সামাজিক বঞ্চনা এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকি কমাতে সুরক্ষামূলক ও প্রতিরোধমূলক সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, এর আওতা ও পরিধি বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই কর্মসূচি বাংলাদেশের কাছে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দিকে উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, বিশেষ করে নারীদের জন্য আওতা বাড়ানো এবং অংশীদারিত্বমূলক (কন্ট্রিবিউটরি) সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করার ফলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দারিদ্র্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে যে, এই কর্মসূচির অধীনে কন্ট্রিবিউটরি সামাজিক সুরক্ষা স্কিম তৈরিতে জোর দেওয়া হবে, যা সময়ের সঙ্গে সরকারের আর্থিক চাপ হালকা করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতায় অন্তত আরও ২ লাখ ৫০ হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একটি মূল কর্মসংস্থান কর্মসূচি (কোর ওয়ার্কফেয়ার প্রোগ্রাম) বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা অভিযোজনক্ষম সামাজিক সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সেবার সুযোগ অন্তত ১৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এসব পদক্ষেপ মাইক্রো-লেভেলে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে, নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে এটি ইতিবাচক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

এডিবি সম্পর্কে বলা হয়, এটি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কাজ করে এমন একটি শীর্ষস্থানীয় বহু-পাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবির বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি দেশের অবস্থান এই অঞ্চলে।

এডিবি এবং বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা আরও স্থিতিশীল হবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।