ঢাকা | শনিবার | ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেল

দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রেক্ষাগৃহে এসেছে কিংবদন্তি পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। ছবিতে মাইকেল জ্যাকসনের ভূমিকায় দেখা গেছে তার ভাইয়ের ছেলে জাফার জ্যাকসনকে; তাঁর অভিনয়, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, পোশাক এবং নৃত্যভঙ্গি দেখে মনে হয় মাইকেল যেন বসে আছেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিনেমাটি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির দিন থেকেই বাংলাদেশে স্টার সিনেপ্লেক্সে দর্শকরা এই ছবিটি উপভোগ করতে পারছেন। ছবিটি মাইকেলের শৈশব, বড় হওয়া, সংগীতে যাত্রা এবং কোটি ভক্তের হৃদয় জয়ের নানা অধ্যায় সৌন্দর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরেছে।

চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে মাইকেলের বর্ণাঢ্য ও নাটকীয় জীবনকে কেন্দ্র করে—তিনি ছিলেন গায়ক, নৃত্যশিল্পী, গীতিকার, অভিনেতা, সমাজসেবী ও ব্যবসায়ী। মৃত্যুর ১৬ বছর পর আবারও রুপালি পর্দায় ফিরেছেন এই আইকনীয় শিল্পী।

সংক্ষেপে জীবনীবৃত্তান্তে বলা যায়, মাইকেল জ্যাকসন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে এক আফ্রিকান-আমেরিকান পরিবারের অষ্টম সন্তান হিসেবে। সংগীতভরা পরিবারের পরিবেশে ছোটবেলা থেকেই তাঁর প্রতিভা ফুটে ওঠে এবং মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ভাইদের সঙ্গে গঠিত ‘দ্য জ্যাকসন ৫’-এর লিড ভোকালিস্ট হিসেবে পেশাদার জীবনে প্রবেশ করেন।

১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে ব্যান্ডটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়; ‘আই ওয়ান্ট ইউ ব্যাক’ ও ‘এবিসি’–র মতো গানেরা চার্টে শীর্ষে জায়গা করে নেয়। ১৯৭১ সালে একক ক্যারিয়ার শুরু করেন মাইকেল, আর ১৯৮২ সালে প্রকাশিত অ্যালবাম ‘থ্রিলার’ তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়—এটি ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবাম হিসেবে পরিচিত।

২০০৯ সালের ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলসে প্রোপোফল ও বেনজোডিয়াজেপাইনের প্রভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। সিনেমাটি তার সেই উত্থান-পতন, সাফল্য এবং ব্যক্তিজীবনের জটিলতার নানা দিক গভীরভাবে অন্বেষণ করে।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টোইন ফুকুয়া এবং তিনবার অস্কার মনোনীত চিত্রনাট্যকার জন লোগান মাইকেলের শৈশব, কৈশোর, তরুণাবস্থা ও মঞ্চজয়ের গল্প এক সূত্রে পেঁচিয়েছেন। লায়ন্সগেট প্রযোজিত এই সিনেমায় জাফার জ্যাকসনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন নিয়া লং, লরা হ্যারিয়ার, জুলিয়ানো ক্রু ভালদি, মাইলস টেলার এবং কোলম্যান ডোমিঙ্গো।

প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি কেমন প্রতিক্রিয়া পাবে, দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া কেমন থাকবে—এসব দেখতে হলে এখনই টিকেট কাটা সময়।