পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার জগন্নাথ হাট তোহা বাজারে ১৯টি দোকান দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগদখলে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, উক্ত জমির তফশীল তথ্য—মৌজা ও জে.এল: সোনাহার/৯৯, খতিয়ান নম্বর: এস.এ – ০১, দাগ নম্বর: ২৭২১; জমির পরিমাণ ০.২২ একর।
স্থানীয় ভূমি অফিসের তৎপরতার ভিত্তিতে গত ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে প্রেরিত স্মারক (নং: ৩১.৫৫.৭৭৩৪.০০০.৯৯.০২১.২৫.১১৪৩) অনুযায়ী ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মিজানু রহমান উক্ত স্থানে থাকা অবৈধ দখলীয় স্থাপনা সারসপ্তাহের মধ্যে অপসারণের জন্য নোটিশ জারি করেন। নোটিশ পাওয়ার পরও উচ্ছেদ না হওয়ায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন দায়ের করা হয়।
বিষয়টি ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ‘ভূ-সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত কার্যক্রম’ সংক্রান্ত জেলা মনিটরিং কমিটির সভায় উপস্থাপন করলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটি নোটিশপ্রাপ্তদের নোটিশ গ্রহণের সাত দিনের মধ্যে সরকারি সম্পত্তি শূন্য করে দিতে বলেন; তা না হলে ‘সরকার ও কণ্ঠপক্ষের জমি ও ভবন (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০’-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী উচ্ছেদ কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে, ২৯ জানুয়ারি সপ্তমাংশে সাবেক জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মর্মে উক্ত জমিতে ১৯ জন ব্যক্তি অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে অবৈধভাবে দখল করছেন। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে দেওয়া হলেও, সূত্রে জানা গেছে দায়িত্ব দেওয়ার তিন মাস পেরনোর পরও অভিযান শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, তিনি সদ্য দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং ঘটনাটি এখনো পর্যবেক্ষণেই রয়েছে; পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন বলেন, সে সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন এবং কয়েক দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি ও কর্মকর্তাদের বারবার নোটিস সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কাজ না হওয়ায় বাজার অধিবাসী ও কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী উদ্বিগ্ন। তারা দ্রুত পর্যাপ্ত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি নির্ধারণ করে জবর-দখল মুক্ত করার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।














