ঢাকা | শনিবার | ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বেজা-মডার্ন সিনটেক্সের মধ্যে ৭.৫ মিলিয়ন ডলারের ভূমি লিজ চুক্তি

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকায় (এনএসইজেড) ৩.৭৫ একর জমির জন্য ৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার বেজা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি উদ্‌ঘাটন করা হয়।

চুক্তির অনুযায়ী মডার্ন সিনটেক্স এখানে একটি হাই ভ্যালু পলিয়েস্টার ইয়ার্ন বা উন্নতমানের পলিয়েস্টার সুতা উৎপাদনকারখানা গড়বে। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের উপস্থিতি বিস্তৃত করতে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) সালেহ আহমদ এই বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এনএসইজেডে দেশীয় শিল্প গঠনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, বেজা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করায় শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেয় এবং দ্রুত শিল্প স্থাপনের সময় পরিবেশগত সুরক্ষা বজায় রাখতে জোর দেবে।

মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী বলেন, বেজার সহযোগিতায় তারা এনএসইজেডে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপন করছেন এবং সেটির দ্রুত সম্প্রসারণে কাজ করা হবে। বেজার পক্ষ থেকে সালেহ আহমদ এবং মডার্ন সিনটেক্সের পক্ষে আবু সুফিয়ান চৌধুরী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বর্তমানে এনএসইজেডে প্রায় ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন চালাচ্ছে এবং আরও প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে। সমুদ্রতীরের ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে কেবল কলকারখানা নয়, আধুনিক নগর সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেড টি কে গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭২ সাল থেকে ভোজ্যতেল, স্টিল, টেক্সটাইল, কাগজ ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে টি কে গ্রুপ বাংলাদেশে এক পরিচিত শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এনএসইজেডে মডার্ন সিনটেক্সের পাশাপাশি টি কে গ্রুপের সামুদা ফুড প্রোডাক্টসও কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

চুক্তিটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় শিল্পিক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ও যোগ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার পাশাপাশি রপ্তানি সম্ভাবনা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।