ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্প ও পোপ লিও চতুর্দশের তীব্র বাকযুদ্ধ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পোপ লিও চতুর্দশের মধ্যে অনন্য এক রাজনৈতিক ও বিষয়ভিত্তিক বিবাদ চলছে। পোপকে ‘উগ্র বামপন্থীদের অনুসারী’ ও ‘অযোগ্য’ বলে সমালোচনা করে ট্রাম্প পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছেন। অন্যদিকে পোপ নিজের শান্তির বার্তায় অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক ভুলভাল প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনে ভয় পান না।

সোমবার আলজেরিয়ায় যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সামনে পোপ লিও চতুর্দশ বলেন, ভ্যাটিকানের শান্তির আহ্বান বাইবেলের সুসমাচার বা গসপেলের মূল শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে। তিনি তীব্রভাবে জানিয়ে দেন, ‘‘সুসমাচারের বার্তা স্পষ্ট: শান্তি স্থাপনকারীরা ধন্য।’’ পোপ আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক কার্যকলাপ ও তাঁর ধর্মীয় বার্তা একই মাপকাঠিতে বিচার করা ঠিক হবে না, এবং যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির সেতু গড়াই তার মিশন।

বিষয়টি সরে এসেছে শুক্রবার রাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই আক্রমণাত্মক মন্তব্য থেকে, যখন ট্রাম্প পোপকে ‘‘অত্যন্ত উদারপন্থী’’ ও ‘‘দুর্বল’’ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, পোপ মর্যাদাসম্পন্ন এই পদে পৌঁছেছেন কেবল তার ‘‘মার্কিন বংশোদ্ভূত’’ পরিচয়ের কারণে এবং তিনি ‘‘র‍্যাডিক্যাল লেফট’’ বা চরম বামপন্থীদের তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্পের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পোপের সাম্প্রতিক বক্তব্য যেখানে তিনি ইরান-যুদ্ধ নিয়ে যোগ করেছিলেন যে নেপথ্যে ‘‘সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম’’ কাজ করছে। এ মন্তব্যের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি এমন কোনো পোপ চান না যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রধারণকে সমর্থন করবে বলে মনে করেন।

বাগযুদ্ধ আরও তীব্র হয় তখনই, যখন ট্রাম্প নিজের একটি বিতর্কিত ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন — যেখানে তাকে যিশু খ্রিস্টের মতো অঙ্গভঙ্গিতে অসুস্থকে সুস্থ করছেন বলে দেখানো হয়েছে এবং আলো নির্গত হচ্ছে তার আঙুল থেকে। ট্রাম্পের এই ছবি এবং তার বক্তব্য যে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ‘‘ঈশ্বরের কর্ম’’—এমন ভাবাবেগ কয়েকটি মার্কিন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতার মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ইউএস কনফারেন্স অব ক্যাথলিক বিশপস-এর প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ পল এস কোকলি ট্রাম্পের মন্তব্যকে দুঃখজনক অভিহিত করে বলেন, ‘‘পোপ কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নন; তিনি খ্রিস্টের প্রতিনিধি, যিনি আত্মার শান্তির জন্য কথা বলেন।’’ অন্যদিকে সিআইএ-র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ’ এবং পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুতর ক্ষমতা রাখার অপকারী যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে ২৫তম সংশোধনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সরানোর বিষয়ে ৭০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যও সরব হয়েছেন বলে রিপোর্ট আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, একজন sitting মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি পোপকে আক্রমণ করা আধুনিক কূটনৈতিক ইতিহাসে বিরল এবং এটি বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। বিশেষত পাকিস্তানে চলে আসা ইরান-সংশ্লিষ্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী শান্তিচর্চা ব্যর্থ হওয়ার পটভূমিতে এই বাকবিতণ্ডা আরও জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

সর্বশেষ পর্যন্ত, পোপ শান্তি ও মৈত্রী প্রতিষ্ঠার আহ্বান অব্যাহত রেখেছেন, আর ট্রাম্পের কড়া রণনৈতিক ভাষা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াগুলি ওয়াশিংটন ও ভ্যাটিকানের সম্পর্ককে ইতিহাসে বিরল এক উত্তপ্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি কিভাবে মোড় নেবে, তা আন্তর্জাতিক নজরকেন্দ্রে রয়ে গেছে।