ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নতুন করে প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ কঠোর সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই আইনের বিধানগুলো পুরনো দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায়ীদের জবাবদিহিতা থেকে মুক্ত করে তাদের মালিকানায় ফেরার পথ তৈরি করছে, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বিপন্ন সংকেত।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন আইনে একটি ধারায় এমন সুযোগ রাখা হয়েছে যে, ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের দায়মুক্তি বা পুনর্বাসনের পথ খোলা হচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের বিধান ব্যাংকিং খাতে পুনরায় দুর্নীতি ও লুটপাটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান স্মরণ করিয়ে দেন, পূর্বে জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫’-এ যদিও দায়ীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু মালিকানা পুনর্বহালের অধিকার আটকানো ছিল। নতুন আইনে সেই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে, যা সুশাসন ও জবাবদিহিতার নীতির পরিপন্থী বলে টিআইবি মনে করছে।
টিআইবি আশঙ্কা করছে যে, দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না করলে খাতটির সংস্কার প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হবে। সংস্থাটি বলেছে, দায়ীদের শাস্তি না দিয়ে পুনর্বাসন দেয়ার ধারা কার্যত পুরস্কারের সুবিচার সৃষ্টি করবে এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও আমানতকারীদের স্বার্থকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সংস্থাটি সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দূর করতে হলে প্রথমে দায়ীদের দায়বোধ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় মালিকানা পুনর্বহাল ও অনুকম্পার মতো সিদ্ধান্ত খাতের সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
টিআইবি তার বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের সুরক্ষার নামে প্রণীত আইন যদি শেষ পর্যন্ত সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে, তাহলে তা জনস্বার্থবিরোধী ও বিপজ্জনক হবে। সংগঠনটি বলছে, এখনই সময় সরকার ঐ বিধানগুলো পুনঃবিবেচনা করে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার।














