দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সরকার নতুন ‘কৃষি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। ধাপে ধাপে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ করা হবে; কার্ডধারীরা বছরে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা এবং অন্যান্য নানা সুবিধা পাবেন।
আগামীকাল ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা জুড়ে ইতিমধ্যেই উৎসবমুখর প্রস্তুতির দেখা মিলছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) Vormiddag বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সমাবেশস্থল পরিদর্শন ও কাজের অগ্রগতি তদারকিতে যান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তার সঙ্গে ছিলেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী; তাদের ভাগ্য বদলালে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য ও অধিকার পান—এই লক্ষ্যেই কৃষি কার্ড কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন হওয়ায় এই দিনটির গুরুত্ব দ্বিগুণ। বাংলা নববর্ষের সঙ্গে দেশের প্রথম কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন মিলায় এ দিনটি টাঙ্গাইলসহ সারাদেশের জন্য স্মরণীয় হবে।
প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি জেলায় ‘প্রি-পাইলট’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। তারপর পাইলট পর্যায়ে উন্নীত করে ধাপে ধাপে সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে আনুমানিক চার বছরের মতো সময় লাগতে পারে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলবাসী উদ্বোধনকে নিয়ে খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। জমিদারপ্রথার বিরুদ্ধে কৃষকদের অধিকার আদায়ে যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আবদুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এই জেলায় কৃষক কার্ডের উদ্বোধন হওয়ায় তা আরও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আশা ব্যক্ত করেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করবেন এবং অনুষ্ঠানটি স্মরণীয় হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।












