ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কলমে ছদ্মবেশী ‘পেনগান’—রাসেলকে হত্যাচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগ

প্রথম নজরে অনেকেরই মনে হতে পারে এটি একটি সাধারণ কলম। কিন্তু হাতে নিয়ে দেখলে বোঝা যায়—এই কলম নয়, বরং এক ধরনের ছোট আকৃতির আগ্নেয়াস্ত্র, যা ইংরেজি নামের অনুপস্থিতির কারণে ‘পেনগান’ হিসেবে পরিচিত। 최근 পুরান ঢাকার নয়াবাজারে যুবদল নেতা রাসেলকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর এই অস্ত্রের ব্যবহার পুলিশি তদন্তকারীদের বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তে মিলেছে, বাহ্যিকভাবে কলমের মতো হলেও পেনগানের ভেতরে ছোট এক ফায়ারিং মেকানিজম থাকে এবং এটি খুব সহজে বহন ও গোপন করা যায়। ঘটনার পর অস্ত্রটি একটি সিগারেটের প্যাকেটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

এই ঘটনায় দায়ের করা তদন্তে পুলিশ কেরানীগঞ্জ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে এবং সায়মন ও সোহেল ওরফে কাল্লু নামের দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দাবি, অস্ত্রটি আনুমানিক ৮০ হাজার টাকায় সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, অস্ত্রটিতে কোনো নির্মাতা বা প্রতিষ্ঠানের চিহ্ন নেই, তাই এর সঠিক উৎস শনাক্ত করা যায়নি; তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে দেশে প্রবেশ করেছে। অতীতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থীদের মাঝেও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য ছিল, এমনকি এক সংসদ সদস্যের হত্যা মামলার গ্রেপ্তারকৃতের কাছেও এর মত অস্ত্র পাওয়ার কথাও শুনেছে তদন্তকারীরা।

ঘটনার সময়লাইন অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল বিকেলে মোবাইল ফোনে ডেকে সায়মন রাসেলকে 자신의 বাসায় নিয়ে যায় ও সেখানে তাকে গুলি করা হয়। গুলির পরে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় সায়মন ও রিপন দাস রাসেলকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরার আশঙ্কায় তারা তাকে সায়েন্সল্যাব এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে আসার সময় সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি ও পরে স্বজনরা এসে পৌঁছানোর পর গ্রেপ্তার থাকাবস্থায় তারা সটকে পড়ে।

আহত রাসেল কোতোয়ালি থানা যুবদলের সদস্য। কোতোয়ালি থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পেছনের বিরোধ ও উদ্দেশ্য উদঘাটনেও কাজ চলছে।

ডিবি যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে অতীতে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনো তথ্য আমাদের কাছে ছিল না, তাই পেনগান কীভাবে দেশে এলো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অস্ত্র সরবরাহকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে; পাশাপাশি দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নূরে আলমও একই ধরনের তথ্য ও তদন্তপ্রক্রিয়া থাকার কথা জানিয়েছেন।

পেনগান মূলত একটি ছদ্মবেশী আগ্নেয়াস্ত্র; ভেতরে থাকা ছোট ফায়ারিং মেকানিজমের কারণে এটি স্বল্প দূরত্বে বিস্ফোরণ করে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এর গোপনীয়তা ও সহজ বহনশক্তি জনসমক্ষে এমন অস্ত্রের ব্যবহারকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে, তাই এর উৎস ও সরবরাহ চ্যানেল দ্রুত শনাক্ত করে কড়াকড়ি তোলা অপরিহার্য। মামলার তদন্ত ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।