ঢাকা | বুধবার | ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও আমেরিকান কূটনীতিক স্টুয়ার্ট জেমসের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সঙ্গে আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল (সেমাবার) সংসদ ভবনের চিফ হুইপ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি ও কার্যকর সংসদ স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিরোধী দলের প্রতি রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে সুন্দর ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনের বার্তা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাদের বাসায় গিয়েছেন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং আনুপাতিক ভিত্তিতে সংসদের স্থায়ী কমিটি সভাপতির পদও বিবেচনা করার কথা বলেছেন। চিফ হুইপ যোগ করেন, সংসদকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চিফ হুইপ আরও বলেন, গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সঠিক পথে রাখতে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের ফ্যাসিস্ট শাসনকাল ব্যক্তিগত স্বার্থে সংবিধানে বহু পরিবর্তন এনেছিল, তাই জনগণের স্বার্থে সংবিধানকে জনবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করার কোনো ইচ্ছা নেই; বরং সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত ভিত্তিতে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হবে।

চিফ হুইপ বলেন, ‘‘আমরা সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এসেছি। সংখ্যায় আমরা যথেষ্ট হলেও সংবিধান সংশোধন করতে চাই সবাইকে সাথে নিয়ে, সবার মতামত বিবেচনায় রেখে। বর্তমান সরকারের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ—এই মানসিকতা নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।’’ তিনি আরও জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে তারা এবং যারা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে সেগুলো পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে চান; কেবল বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সবাইকে নিয়ে আলোচনা করতে চান।

স্টুয়ার্ট জেমস বর্তমান সরকারের কয়েকটি জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষত কৃষিক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

চুক্তিবদ্ধভাবে শেষ হওয়া বৈঠকে দুই পক্ষ ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদারের জন্য সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার সমর্থন জানান।