টালিউড সুপারস্টার কোয়েল মল্লিক 이제 নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করলেন। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি সোমবার, ৬ এপ্রিল, দিল্লির সংসদ ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ভব্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হল তার রাজনৈতিক যাত্রা, যেখানে অভিনয়ের সীমা পেরিয়ে তিনি সরাসরি জাতীয় নীতি-নির্ধারণের মঞ্চে নিজের জায়গা করে নিলেন।
শপথ গ্রহণের সময় তিনি দাপ্তরিক নাম রুক্মিণী মল্লিক হিসেবে শপথগ্রহণ করেন এবং মাতৃভাষা বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন। ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণন তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করান। পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত হওয়ার পাঁচজন সদস্যের মধ্যে কোয়েল অন্যতম—এঁরা সকলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এই বিশেষ মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল।
শপথগ্রহণে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়—তামিলনাড়ু, ওডিশা এবং মহারাষ্ট্র থেকেও মোট ১৯ জন নবনির্বাচিত সদস্য অংশ নেন। দিল্লির সংসদ চত্বরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল থেকেও অনেকে উপস্থিত ছিলেন, যারা কোয়েলকে শুভেচ্ছা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শপথ গ্রহণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্ত ও নিযোজিত জনতার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে; তবু বড় অংশ তাঁর নতুন সংশ্লিষ্টতাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং তিনি ন্যায্যভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
শপথ নেওয়ার পর সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কোয়েল মল্লিক উলেখ করেন, এটি তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে আজ তিনি এখানে পৌঁছেছেন এবং রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চান। তিনি বলেন, সংসদীয় মঞ্চে তিনি বিশেষভাবে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নারী ও শিশু উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন। তাঁর জনসেবার অভিমুখ মূলত তার বাবার—কিংবদন্তি অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক—আদর্শ থেকেই অনুপ্রাণিত।
কোয়েল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে অভিনয় জগত থেকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। ভালো চিত্রনাট্য বা মনের মতো চরিত্র পেলে তিনি রূপালি পর্দায় ফিরবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখন থেকে তার সময়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে সংসদীয় দায়িত্ব পালন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করতে। সূত্রের খবর, চলতি রাজ্যসভার অধিবেশন থেকেই তিনি বিভিন্ন সংসদীয় বিতর্কে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন কোয়েলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ও শক্তিশালী মাত্রা যোগ করতে পারে। রুপালি পর্দার আবেদন আর সাংগঠনিক অঙ্গনে তার উপস্থিতি—দুইয়ের সমন্বয়ে আগামী দিনে কোয়েলের রাজনৈতিক ভূমিকা নজর কাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।














