ঢাকা | মঙ্গলবার | ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন দাবি করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ঢাকায় নতুন ও বাস্তবভিত্তিক ভোটার তালিকা করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন, tylko তারাই এই শহরের ভোটার হওয়া উচিত; অন্যত্র থাকা লোকজন নির্বাচনী সময়ে ঢাকায় এসে ভোট দেওয়া ঠিক নয়।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আবদুস সালাম।

নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের অনেক বাড়িতে আগে সাত-দশটি ভোটার থাকলেও হঠাৎ সেখানে ১৫০ জনের মত ভোটার দেখার মতো ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় বাড়ির মালিকও জানেন না সেই ভোটাররা কারা বা কোথা থেকে এসেছে। তিনি বলেছেন, ‘‘আপনি যেখানে বাস্তবে থাকেন, সেখান থেকেই ভোটার হওয়া উচিত। ঢাকা শহরে থাকবেন না, ট্যাক্স দেবেন না, তারপরও ভোটের সময় নাম থাকবেন—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’’

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, দেশে যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে; দলটি জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাসী।

বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, সারা বিশ্ব যখন মন্দা ও যুদ্ধের সূত্রে সংকট মোকাবিলা করছে, তখন সরকারের শীর্ষনেতা—আবদুস সালামের ভাষ্য—অত্যন্ত সাহসীভাবে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী অফিসে এসি চালান না, অপ্রয়োজনে আলো জ্বালান না—এভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন’’ এবং তা দেশের জন্য প্রাসঙ্গিক দাবি করেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা দেশকে সংকটে ফেলার চেষ্টা করছে।

নির্বাচনের সময় সমালোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রসঙ্গেও তিনি отмечেন যে এখন তা বিতরণ শুরু হয়েছে; পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সরকারের সমালোচকদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘‘মানুষ ১৭ বছর পর গণতন্ত্রের মুখ দেখছে; এক-দুই মাসে সব কিছু ঠিক করাও সম্ভব নয়। তাই hঠকারী কর্মসূচি দিয়ে দেশের ক্ষতি করবেন না।’’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তিনি আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার এতদিন পরেও ইতিহাস নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে; যারা মুক্তিযুদ্ধের পর ক্ষমতায় ছিল, তাদের মনে-প্রাণে মুক্তিযুদ্ধ চাওয়া ছিল না—এই কারণেই প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত হয়েছে, তিনি আক্ষেপ করেন।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার। এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ. মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।