আন্তর্জাতিক বিরতির সরাসরি পরই আর্সেনালের কাছে বড় ধাক্কা লেগেছে। কারাবাও কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আঘাতও শিকেয় উঁকানো যায়নি — এবার এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সাউদাম্পটনের কাছে ২-১ হার দিয়ে বিদায় নিতে হলো মিকেল আর্তেতার মুখফুটে দলকে। একই রাতে চেলসি তাদের ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এক মাত্র ঢেউ তুলেছে।
সেন্ট ম্যারিতে খেলা ম্যাচটি শুরু থেকেই নাটকীয়তার পূর্ণ ছিল। ইনজুরিতে দুর্বল হয়ে থাকা আর্সেনাল কথিত ফেভারিট হিসেবে নেমে হলেও শুরু থেকেই সেন্টদের চাপে পড়ে যায় গানাররা। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে আর্সেনালের রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রস স্টুয়ার্ট গোল করে সাউটহ্যাম্পটনকে সামনের দিকে ঠেলে দেন। প্রথমার্ধে আর্সেনাল সমতা ফেরাতে তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর্তেতার তিন পরিবর্তনের পর দল খেলায় ফিরে আসে। ৬৮ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল ও কাই হ্যাভার্জের উদ্যোগে ভিক্টর গিওকেরেস সমতা ফেরান।
ম্যাচটি যখন ফলো অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে মনে হচ্ছিল, ঠিক সে সময় সাউটহ্যাম্পটনের কোচ টোণ্ডা একার্টের তুরুপের তাস হিসেবে মাঠে নামানো শিয়া চার্লস ৮৫ মিনিটে ঠান্ডা মাথায় জাল জড়িয়ে দেন এবং দলকে সেমিফাইনালে নিশ্চিত করেন। শেষ প্রতিযোগিতার মুহূর্তগুলোতে আর্সেনাল যে কষ্টে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেছিল, সাউটহ্যাম্পটনের সঘন রক্ষণ তা ভাঙতে দেয়নি। এই পরাজয়ে আর্সেনালের তিন শিরোপার স্বপ্নগুলো কাঁধে ভার হয়ে এসেছে এবং গত দুই কাপে ধারাবাহিক হারের কারণে মানসিকভাবে তারা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ১৯৭৬ সালের পর আবারও এফএ কাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সাউটহ্যাম্পটন।
লন্ডনে অন্য মাঠে চেলসি ভিন্ন রূপেই ঝড় তুলেছে। তারা পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়ে প্রতিপক্ষের জালে সাতটি গোল পাঠায়। প্রথমার্ধেই তিনটি গোল করে জয় দৃঢ় করে ব্লুজেরা — ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই জোরেল হাতো গোল উৎসবের সূচনা করেন, ২৫ মিনিটে জোয়াও পেদ্রো ব্যবধান বাড়ান এবং এরপর প্রতিপক্ষের চাপেই গ্যাব্রিয়েলের আত্মঘাতী গোল চেলসির নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে।
দ্বিতীয়ার্ধেও চেলসির তাণ্ডব থেমে ছিল না। ৫৭ মিনিটে টসি আদারাবায়ো চতুর্থ গোলটি তুলে দেন, ৬৯ মিনিটে আন্দ্রে সান্তোস একটি আরও গোল করেন, ৮২ মিনিটে তরুণ এস্তেভাও জালে আবারো বল জড়ান এবং শেষ মুহূর্তে আলেজান্দ্রো গারনাচো চেলসির সপ্তম গোল নিশ্চিত করেন। চেলসির এই বিধ্বংসী জয় লিগের বাকি দলগুলোর জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিল।
এই ঘটনাগুলোর পর আর্সেনালের সামনে এখন একমাত্র বড় কাজ—প্রিমিয়ার লিগে মনোযোগ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখা। অন্যদিকে সাউটহ্যাম্পটন এফএ কাপের পথ সুগম করে রেখে খুব ভালো মনোবল নিয়ে সামনের ধাপগুলো নিয়ে ভাববে, এবং চেলসি তাদের ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক ফর্মে অন্য সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে।














