দীর্ঘ এক বছরের প্রতিযোগিতা ও কয়েক হাজার প্রতিদ্বন্দ্বীকে পিছু ফেলে শেষে জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে দিয়ে থামল ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০২৫’। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে রাজশাহীর ছেলে/মেয়ে (ইভেন্ট সূত্র অনুযায়ী) বিদুষী বর্ণিতা ২০২৫ সালের লাক্স সুপারস্টার হিসেবে crowned হন। তেঁর শীর্ষস্থানে অবস্থান করে মঞ্চে সেরার মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়। প্রথম রানারআপ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম।
বিজয়ী ঘোষণার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। নিজের নাম শুনে বিদুষী আনন্দ চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি। জয়ী হওয়ার পর তিনি জানান, এই দীর্ঘ যাত্রার শুরুতে কখনও ভাবেননি এত বড় সম্মান পাবেন। নিজের কঠোর পরিশ্রম, সৃষ্টিকর্তার রহমত এবং দর্শকদের আন্তরিক ভালোবাসাকেই তিনি এই সাফল্যের মূল সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
সার্ধসৌন্দর্য ও উপহারও ছিল আকর্ষণের অংশ—সেরা বিজয়ী হিসেবে বিদুষী পেয়েছেন একটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং সম্মানজনক ট্রফি। তাঁর সবচেয়ে বড় এক পাওয়া হলো জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফীর আগামী চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ, যা তার চলচ্চিত্রজীবনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে অনেকে আশা করছেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রুহুল কুদ্দুস খান এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ফরিদুর রেজা সাগর আরও ঘোষণা করেন যে, এবারের শীর্ষ বিজয়ীদের নিয়ে প্রখ্যাত নির্মাতা শিহাব শাহীন একটি বিশেষ ওয়েব ফিল্ম নির্মাণ করবেন, যা নবীন এই প্রতিভাদের পেশাদার কেরিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা রয়েছে।
এবারের আসরে তিনজন মেন্টর—দুই বাংলার প্রভাবশালী অভিনেত্রী জয়া আহসান, নাট্যরানি মেহজাবীন চৌধুরী এবং নির্মাতা রায়হান রাফী—প্রতিযোগীদের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। চূড়ান্ত পর্বে পাঁচ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে সেরাদের বাছাই করা ছিল বিচারকদের জন্য চ্যালেঞ্জিং কাজ। ফাইনালিস্টদের মধ্যে আফরীন ইয়ুমনা ও তিস্তা পালও কড়া লড়াই করেছেন। প্রথম রানারআপ নাযাহ নাওয়ার পুরস্কার হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা পেয়েছেন, এবং দ্বিতীয় রানারআপ আমিনা ইসলাম তিন লাখ টাকা লাভ করেছেন।
লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতা ২০০৫ সালে শুরু হয়ে ঢাকা-চলোাকর বিনোদনপল্লীকে বহু প্রতিভা উপহার দিয়েছে। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে এসেছেন নির্ভরযোগ্য অভিনয়শিল্পীরা, যাদের মধ্যে জাকিয়া বারী মম, আফসান আরা বিন্দু, আজমেরী হক বাঁধন ও মেহজাবীন চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত। সর্বশেষ ২০১৮ সালে মিম মানতাসা এই খেতাব জেতেন। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতা প্রমাণ করল যে সঠিক সুযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম পেলে প্রান্তিক শহর থেকেও প্রতিভাবান নক্ষত্ররা উঠে আসতে পারে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিদুষী বর্ণিতার এই জয় ঢালিউডে নতুন প্রাণ যোগ করবে এবং পরবর্তী সময়ে তাকে বড় পর্দায় আলোকিত দেখার সম্ভাবনা তৈরি করবে।














