ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) আবারও দাপট দেখিয়ে দিল পাঞ্জাব কিংস। শুক্রবার এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে মাঠে গড়ে ২০৯ রানের বড় সংগ্রহকে তাড়া করে পাঁচ উইকেটে জিতে নিল প্রীতি জিনতার দল। এই জয়ের ফলে গত চার বছর পর প্রথমবারের মতো চেন্নাই সুপার কিংস টুর্নামেন্টের শুরুতেই দুইটি ম্যাচই হেরে বসেছে — এমন অবস্থা তাদের জন্য বড়ই চিন্তার।
ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাই অধিনায়ক। শুরুটা বেশ অনিশ্চিত ছিল: সঞ্জু স্যামসন মাত্র ৭ রানে ফিরে গেলে চেন্নাই অসাধারণ স্থিতিতে ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে তরুণ আয়ুশ মাহাত্রে এবং রুতুরাজ গায়কোওয়াড় একটি শক্তিশালী জুটি গড়ে দলের ভিত্তি তৈরি করেন। গায়কোওয়াড় ২৮ রানে ফিরে গেলেও আয়ুশ মাহাত্রে ঝড়ো ব্যাটিং করে ৪৩ বলে ৬৪—দুঃখিত—৭৩ রান করেন (৬ চার, ৫ ছয়)। শেষ দিকে সরফরাজ খান ১২ বলে ঝটপট ৩২ ও শিভম দুবে নির্ভরযোগ্য অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংসে দলের রান ২০ ওভার শেষে ২০৯/5 এ দাঁড় করান। পাঞ্জাবের পক্ষে বিজয়কুমার ভিশাক দুটি উইকেট নেন।
উত্তেজনা পূর্ণ লক্ষ্যের দিকে এগোতে পা রাখতেই আক্রমণাত্মক শুরুর সঞ্চালক হয়ে উঠেন পাঞ্জাবের ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য। মাত্র ১১ বলেই ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় তিনি ৩৯ রান করে দলকে পাওয়ারপ্লেতে বড় সুবিধা এনে দেন। প্রভসিমরন সিং ৩৪ বলে ৪৩ রান করে আউট হলেও এরপর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও কুপার কনলি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণের কাজটি চুকাতে দেননি। আইয়ার মাত্র ২৯ বলেই হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান। শেষে শশাঙ্ক সিংয়ের প্রাণবন্ত ব্যাটিংয়ে পাঞ্জাব নির্ধারিত সময়ের আগেই জয় তুলে নেয়।
এই জয়ের মাধ্যমে পাঞ্জাব কিংস টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুইশোর্ধ্ব লক্ষ্য তাড়া করে জয়ী হওয়ার রেকর্ডে নতুন মাত্রা যোগ করে — এটি তাদের নবম এমন জয়। এ তালিকায় তারা অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলকে ছাড়িয়ে এগিয়ে গেছে, যেখানে ওই রেকর্ডটি সাতবার রয়েছে। বিচিত্রভাবে, চেন্নাইকে সামনে রেখে পাঞ্জাব কয়েকবারই সফল লক্ষ্য তাড়া করেছে; মোট ছয়বার ২০০+ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঁচবারই তারা জিতেছে — কোনো একক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এটি নজিরবিহীন।
চেন্নাই শিবিরের জন্য এই ফল ভীষণ সতর্কবার্তা। আসরের শুরুতেই টানা দুই পরাজয় তাদের শিরোপা রক্ষার স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিতে পারে। বিশেষ করে মাঝামাঝি ওভারে এক ঝটিকা ব্যাটিং না হলে দলের সামগ্রিক পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখাচ্ছে।
ম্যাচসেরার পুরস্কার পান প্রিয়াংশ আর্য—মাত্র ১১ বলেই ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার ফলে তিনি আবারও আলোচনায় এলেন। অনভিষিক্ত বা ‘আনক্যাপড’ ক্রিকেটার হিসেবে তার এই সাফল্য দলকে নতুন উৎসাহ দিল। পাঞ্জাব দুই ম্যাচের দুটোই জিতে পয়েন্ট টেবিলে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে এবং এবারের আইপিএলকে শুরুতেই এক ভিন্ন উত্তেজনা দিয়েছে।














