নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কৃষকদের দুর্দশ্য দেখতে বিদেশি জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কাউয়ার বাড়ি খাল ও তৎসংলগ্ন প্লাবিত এলাকা ঘুরে তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মিকাইল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিদ্দিক হোসেন, ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, কলমাকান্দা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ কৃষকরা। সাধারণ মানুষ তাদের ফসলের ক্ষতি ও ভোগান্তি তুলে ধরেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এ অঞ্চলের মানুষ প্রায় সম্পূর্ণভাবে কৃষিভিত্তিক উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। রাতে হঠাৎই পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বহু জমির ফসল — কেউ হয়তো কিছুই পাবে না, কেউ সামান্যই পাবে; এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরিভাবে বাঁধের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কিছু অনুদান দেয়া হয়েছে। আমি নিজে একজন কৃষক পরিবারের সন্তান; কৃষকের জন্য যা করা যায় আমরা তা করবো ইনশাআল্লাহ।”
ডেপুটি স্পিকার হাওরের এই করুণ অবস্থার জন্য পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থা ও অনিয়মকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “গত ১৫-২৫ বছরে এ অঞ্চলে কোনো নদী বা খাল খনন হয়নি। উল্টো কোথাও কোথাও বাঁধ দিয়ে নদীর সাথে খালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দলীয় নেতারা মাছ চাষের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন। এ ধরনের অনিয়ম আর চলবে না—ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার সারা দেশে খাল ও নদী খননের বড় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং এই প্রকল্পের আওতায় হাওর অঞ্চলের খালগুলোও খনন করা হবে বলে কৃষকদের আশ্বস্ত করেন। নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির ফসল বর্তমানে ঝুঁকিতে আছে বলে উল্লেখ করে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের urgente দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কায়সার কামাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে স্বজনপ্রীতি ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে বলেন, “আমি এখান থেকেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—তারা দ্রুত হাওর অঞ্চলে এসে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকার যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সেগুলো বাস্তবায়নে এগিয়ে আসলেই আমরা অগ্রসর হতে পারব।”
পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনসম্পদ সুরক্ষা, জরুরি ত্রাণ ও দীর্ঘমেয়াদি নালা-খাল খননের পরিকল্পনা নিতে নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ইতিবাচক ফল পাওয়ার জন্য সরকারী সহায়তা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।














