দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে এক বর্ণাঢ্য অধ্যায় শেষ করে আন্তর্জাতিক সব ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্যাটিং তারকা রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। আজ বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি নিজের সিদ্ধান্ত জানান। খবরটি আসে সেই মুহূর্তে যখন ২০২৬–২৭ মৌসুমের জন্য ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় তাঁর নাম নেই—এমন খবর পাওয়ার পরই তিনি এই পথ বেছে নেন। একই তালিকায় আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার ডেভিড মিলারেরও নাম ছিল না।
ইনস্টাগ্রামে লেখা বক্তব্যে ডুসেন গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় জার্সি ধারণ করা নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে দেখেন এবং বলেন, দেশের হয়ে খেলা কেবল খেলা নয়, এটি দায়িত্ব, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার পরীক্ষা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেও মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য প্রচেষ্টা করতে পেরে তিনি গর্ববোধ করেন—প্রত্যেক জয়ই তার জীবনের মুহূর্তগুলোকে অর্থবহ করে তুলেছে।
অন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় দিলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার পরিকল্পনা নেই ডুসেনের। তিনি বলেছেন, তাঁর দীর্ঘদিনের দল লায়ন্সের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে কোচিংয়ে যুক্ত হয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মাঝে ছড়ানই চান তিনি।
ডুসেনের আন্তর্জাতিক সফর শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে। দ্রুতই তিনি দলের অপরিহার্য একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনি মোট ৭১টি ওয়ানডে, ৫৭টি টি-টোয়েন্টি ও ১৮টি টেস্ট খেলেছেন। মিডল অর্ডারে তার নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং দলকে অসংখ্য জয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে করা তাঁর স্মরণীয় ১৩৩ রানের ইনিংস ভক্তদের মনে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ডুসেনের শেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তার এই বিদায় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডারে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সেই জায়গা ভরাট করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
ভক্তরা এখন আরেকভাবে অপেক্ষায়—ঘরোয়া মাঠে তাকে নতুন ভূমিকায় দেখতে চাইছে, আর অনেকেই আশা করছে তার কোচিংয়ে যোগদান দক্ষিণ আফ্রিকার যুব ক্রিকেটকে নতুন দিশা দেবে।














