ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের প্রথম জয়: শামিল-হাসানের ফিফটির পর আবরারের ঘূর্ণিতে হায়দরাবাদ ধবলধুলা

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আসরে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স শেষ পর্যন্ত তাদের প্রথম জয়ের স্বাদ পেল। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে তারা হায়দরাবাদ কিংসকে ৪০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করে। হার্ডলম্ব শুরু হলেও দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে দুই তরুণ ক্রিকেটার শামিল হোসেন ও হাসান নাওয়াজ দলকে এনে দেন শক্ত ভিত্তি। পরে বোলাদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ম্যাচটি নিজেদের পুতুল বানিয়ে শেষ করে কোয়েটা। এই জয়ে হায়দরাবাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে গেলো টেবিলের লড়াইয়ে।

ম্যাচে টসে জিতে কোয়েটার অধিনায়ক সৌদ শাকিল বাঁহাতি ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে ব্যাটিং করে শুরুতেই বিপদে পড়ে দলটি। মাত্র ৪ রানেই প্রথমে অধিনায়ক সৌদ শাকিল এবং তার পরে অভিজ্ঞ ব্যাটার রাইলি রুশো ০ রানেই আউট হন। এই ধাক্কা সামলাতে শামিল হোসেন ও হাসান নাওয়াজ দায়িত্ব নিয়ে খেলেন এবং তৃতীয় উইকেটে ৮৯ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলের অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন করেন। শামিল ৪১ বলে ৫৪ রান এবং হাসান ৪০ বলে ৫৩ রান করেন, যা দলের স্কোরকে শক্ত করে। ইনিংসের শেষ দিকে টম কারান দ্রুত ১৮ বলে ৩১ রান করেন, যার ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে কোয়েটার স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৭৪ রান।

হায়দরাবাদের পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স করেন রাইলি মেরেডিথ, তিনিই ৩৮ রানে ৩ উইকেট নিতে সক্ষম হন। মাহিশ থিকশানা ও আকিফ জাভেদ দুটি করে উইকেট নেন। তারাও চেষ্টা করেন কোয়েটার বড় সংগ্রহ ঠেকাতে। লক্ষ্যভুক্ত হতে নেমে দলটি শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে। প্রথম দুই ওপেনার সাইম আইয়ুব ও মাজ সাদাকাত খুব দ্রুত ফিরে গেলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ২৩ রান করেই ফিরে যান।

মধ্যভাগে কোয়েটার স্পিনার আবরার আহমেদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে পুরো মিডল অর্ডার দিশেহারা হয়ে পড়ে। আবরার মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৩ টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে দলের হয়ে খেলাই মেরুদণ্ড ভঙ্গ করেন। হায়দরাবাদের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন ইরফান খান নিয়াজি, তবে তাতেও পারলেন না জয় টানতে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে হায়দরাবাদের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৩৪ রান। আবরার আহমেদের বিধ্বংসী বোলিং এবং ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় কোয়েটা ৪০ রানের বড় জয় পায়। এই জয়ে তারা টেবিলের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে।