ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

তেলের জন্য হাহাকার, ভোগান্তি চরমে

চট্টগ্রামে জ্বালানি তেল নিয়ে জনজীবনে ব্যাপক অসুবিধা ও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনের তেল মিলছে না, আর পাম্পগুলোতে ঝুলছে ‘অকটেন নেই’ কিংবা ‘তেল নেই’ এর নোটিস। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কড়া নজরদারি শুরু করেছে। জেলা পুলিশ কঠোর নির্দেশ দিয়েছে যেন কোনও অপ্রামাণ্য কাগজপত্র ছাড়া তেল বিক্রি না হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোববার থেকে এই বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে হেলমেট, লাইসেন্স ও বৈধ কাগজ ছাড়া অকটেন বিক্রি হবে না বলে সতর্ক করা হচ্ছে। অন্যান্য যানবাহনের চালকদেরও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হবে। এসব ব্যবস্থা আয়োজন করা হয়েছে থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ তদারকিতে।

বিশ্বব্যাপী মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিলে দেশেও তেল সংক্রান্ত আতঙ্ক শুরু হয়। প্রয়োজনের চাইতে বেশি তেল কিনতে শুরু করে কিছু ক্রেতা, ফলে সরকার ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। তবে ঈদে কাছাকাছি সময়ে এই সীমাবদ্ধতা তুলে নেয়া হয়।

ঈদের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, ২৩ মার্চ থেকে আবারও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাম্পে তেলের সংকট দেখা দেয়। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরাও। বর্তমানে অনেক পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল বিক্রি হচ্ছে, যার মাধ্যমে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট পেট্রোলপাম্পের সংখ্যা ৩৮৩টি, যেখানে ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলার সংখ্যা যথাক্রমে ৭৯৯ ও ২৫৫। শহরে রয়েছে ৪৬টি ফিলিং স্টেশন, যা পুরো দেশের তুলনায় একটি বড় সংখ্যা। তবে বেশ কিছু দিন ধরে বেশিরভাগ পাম্পে অকটেনের সরবরাহ কম বা বন্ধ; এর কারণে সাধারণ মানুষ ও চালকরা ভুগছেন।

ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, চাহিদার অর্ধেকেরও কম তেল ডিপো থেকে পাওয়া যাচ্ছে, ফলে রেশনিং পদ্ধতিতেই বিক্রি চালাতে হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ডিলাররা সময়মতো পে-অর্ডার দিতে পারেননি, ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে ‘অকটেন নেই’ বা ‘তেল নেই’ লেখা পোস্টার ঝুলছে। যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে রাইড-শেয়ার চালক ও মোটরসাইকেল চালকদের লাইন দীর্ঘ হয়ে গেছে। চকবাজার, বহদ্দারহাট, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, ষোলশহর, লালখান বাজার ও সিআরবি মোড়ে দেখা গেছে একই চিত্র। আগে যেখানে ২৪ ঘণ্টাই তেল বিক্রি চলত, এখন তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত। অনেক পাম্পে অকাল বন্ধ রয়েছে, আবার কোথাও অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে কঠিন হয়ে পড়েছে কর্তৃপক্ষ।

লালদীঘির পাড় সিরাজুল হক অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে সোমবার দুপুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলগুলোর দীর্ঘ লাইন। বিকাল ৫টায় এই পাম্প বন্ধ থাকলেও, আগে এটি সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকত।

নগরীর পেট্রোলপাম্পের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাদের পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা তেল বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে জ্বালানি চালান ও বিক্রির ক্ষেত্রে নজরদারি বজায় থাকে।