বিশ্ববাজারে জ্বালানির অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকার স্পট মার্কেট থেকে আরও দুই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে নেওয়া হবে এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসারে কার্যকর করা হবে।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেন। বৈঠকটি অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব পাস করা হয়। দুই কার্গোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।
অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এলএনজি দুই দফায় এসে পৌঁছাবে — ১০তম কার্গো ২৪–২৫ এপ্রিল এবং ১১তম কার্গো ২৭–২৮ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহের লক্ষ্যে নিযুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী ওই দুই কার্গো যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল এনার্জিস থেকে কেনা হচ্ছে। গ্যাসের মূল্য প্রতি এমএমবিটিইউ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯.৭৭ মার্কিন ডলার। প্রতিটি কার্গোর জন্য বাজেট হিসেবে ধরা হয়েছে ৮৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি বাড়া সামরিক উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভোলাটিলিটি দেখা দিয়েছে এবং এর প্রভাব এলএনজি বাজারেও পড়েছে। ফলত আগের সময়ের তুলনায় স্পট মার্কেটে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।
এর আগে একই মন্ত্রিসভা কমিটি ১১ মার্চ তিনটি কার্গো কেনার অনুমোদন দেয়; তখন একটি কার্গোর দাম ছিল প্রতিটি এমএমবিটিইউ ২১.৫৮ ডলার এবং বাকি দুইটির দাম ছিল ২০.৭৬ ডলার। এরও আগে এক সপ্তাহ আগের আরেকটি অনুমোদনে দুই কার্গো কেনা হয় — যেখানে একটির দাম ছিল ২৮.২৮ ডলার এবং অন্যটির দাম ছিল ২৩.০৮ ডলার।
সরকারের এই ক্রয়সম্পর্কিত পদক্ষেপ দেশের গ্যাস সরবরাহ অটুট রাখা ওৎকঠিন বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জটিলতার মধ্যে স্থিতিশীলতা রেখে পরিবেশিত করার অংশ হিসাবে দেখা হচ্ছে।














