কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে অনেক পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল শেষ থাকায় হাজারো মোটরসাইকেল চালক সমস্যায় পড়েছেন। ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন ও মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা গেছে, মেশিনে টাঙানো বোর্ডে লেখা ছিল—‘অকটেন, পেট্রোল নেই, তাই সরবরাহ বন্ধ।’ ফলে তেল নেওয়ার জন্য এসে অনেক চালকই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
মোটরসাইকেল চালক সবুজ আহমেদ জানান, ভৈরবের দুইটি পাম্পে তেল আনতে গিয়ে তিনি দেখেছেন অকটেন ও পেট্রোল নেই, তাই মালিকরা মোটরসাইকেল চালকদের তেল দিচ্ছে না। তাদের বক্তব্য—কিছুদিন ধরে পাম্পে তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত, দুটি দিন পর থেকে তেল না পাওয়া যেতে পারে বলে তারা জানায়।
অন্য এক চালক মোবারক হোসেন বলেন, পাম্পে শুধু ডিজেল আছে, অকটেন বা পেট্রোল নেই। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘এখন কি আমরা ডিজেল বা কেরোসিন দিয়েই মোটরসাইকেল চালাবো?’
অপু মিয়া আরও বলেন, ‘দুই দিন ধরে যদি অকটেন-পেট্রোল না আসে তাহলে আমাদের বাইক ঘরে রেখে পায়ে হেঁটে চলতে হবে। তেলের অভাবে বাইক চালানো তো সম্ভব নয়।’ সকলেই দ্রুত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ চেয়েছেন।
ভাই ভাই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী জালাল উদ্দিন জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই তাদের পাম্পের অকটেন ও পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে, তাই গ্রাহকদের তেল দিতে পারছেন না। তিনি আশা করে বললেন, রবিবার থেকে ডিপো থেকে সরবরাহ শুরু হলে আবার তেল দেয়া যাবে।
মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জিসান আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পাম্পে থাকা তেল গ্রাহকদের দেয়া হয়েছে; আজ সকালে তেল শেষ হওয়ায় তারা তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের ডিপোতে বৃহস্পতিবারই অকটেন-পেট্রোলের জন্য পে-অর্ডার জমা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত পাম্পগুলো গ্রাহকদের তেল দেয়া সম্ভব হয়েছে, বর্তমানে কয়েকটি পাম্পে তেলের সংকট দেখা দিচ্ছে। তিনি জানান, এসব পাম্পে নিয়মিত নজরদারি চলছে এবং সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত ঠিক কখন সম্পূর্ণ সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে তা নিশ্চিত নয়। দুর্ভোগে থাকা মোটরসাইকেল চালকরা দ্রুত ও ধারাবাহিক জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।














