ঢাকা | শুক্রবার | ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এশিয়া-প্রশান্তে দ্রুত সহায়তা দেবে এডিবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সমন্বিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) — জানিয়েছে সংস্থাটি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এডিবি দ্রুত, কার্যকর ও নমনীয় সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সংস্থাটি পরিস্থিতি মনিটর করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যাতে দুর্যোগের ফলে জীবনযাপন, সরবরাহশৃঙ্খল এবং রাজস্ব অধিগ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত না হয়।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা বলেন, “তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা জোরদারে এডিবি দ্রুত, নমনীয় ও সম্প্রসারণযোগ্য সহায়তা প্রদান করবে। এর মধ্যে দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা এবং বাণিজ্য ও সরবরাহশৃঙ্খল অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে অত্যাবশ্যক পণ্য—বিশেষত জ্বালানি তেল—অবিচ্ছিন্নভাবে আমদানি করা যায়।”

সংগঠনটি জানিয়েছে, বিদ্যমান ও পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত তহবিল রয়েছে এবং প্রয়োজনে জরুরি সহায়তা বাড়ানোর সক্ষমতাও আছে। তা 추진ের জন্য কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল ঋণ সুবিধাসহ নানা আর্থিক উপকরণ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এডিবি বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে—বিশেষত জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা, মূল্যস্ফীতিৎস্বরণ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব। সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাহাজ চলাচলের রুটে বিঘ্নে পরিবহন খরচ ও সময় উভয়ই বেড়েছে; একই সঙ্গে পেট্রোকেমিক্যাল, সারসহ কয়েকটি কাঁচামালের সরবরাহঝুঁকি বাড়ায় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পর্যটন ও প্রবাসী আয় থেকে বড় অংশ অর্জনকারী দেশগুলো এই সংকটে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে আছে। অনিশ্চয়তা বাড়ায় আর্থিক পরিবেশ কড়া হয়ে উঠছে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার মানে চাপ এবং পুঁজি প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এসব ঝুঁকি সামলাতে এডিবি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে সময়োপযোগী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সহায়তা প্যাকেজের প্রথম ধাপে জরুরি আর্থিক সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা দেওয়া হবে; এতে কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই-চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সমর্থন করে জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি পণ্যের আমদানি সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংস্থাটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তেল আমদানিতে সহায়তা পুনরায় চালুর বিশেষ ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে, যা জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির ও সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে। এডিবি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং সরকার, উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মোট ৬৯টি সদস্য দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি দেশ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।