ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাদের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের সম্মানে চার্চা ছড়ালো—ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার ব্যবহৃত ‘১২’ নম্বর জার্সিটি চিরতরে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী ভবিষ্যতে আর কোনো খেলোয়াড় কলকাতার জার্সিতে ১২ নম্বর পরে মাঠে নামতে পারবে না। আইপিএল ২০২৬ মৌসুম শুরু হওয়ার ঠিক আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে কেকেআর কর্তৃপক্ষ রাসেলের এক দশকেরও বেশি ত্যাগ, জানমালের ন্যায় বিশুদ্ধ নিষ্ঠা এবং স্মরণীয় পারফরম্যান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতার নমুনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
আন্দ্রে রাসেল ও কেকেআরের সম্পর্ক ছিল কেবল পেশাদারীর বাঁধা নয়—এটি ভক্তি আর আবেগের এক গভীর বন্ধন। গত মৌসুমে যদিও কেকেআর তাঁকে খেলোয়াড় হিসেবে ছেড়ে দিয়েছিল, রাসেল নিলামে অংশ নেননি এবং নিজের প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০২৬ সিজনে দলকে ‘পাওয়ার কোচ’ হিসেবে যোগ দেন। এই পদক্ষেপের মধ্যেই আইপিএলে তাঁর খেলোয়াড় জীবনের অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেলো—কেকেআর ম্যানেজমেন্ট মনে করে, এই অবদানের স্মরণে জার্সি নম্বর ১২ অবসরে পাঠানোই যথোপযুক্ত সম্মান।
কলকাতার বেগুনি-সোনালি জার্সিতে রাসেলের পরিসংখ্যান সত্যিই প্রতিভা ও প্রভাবের মিশ্রণ। কেকেআরের হয়ে তিনি ১৪০টি ম্যাচে ২,৬৫১ রান সংগ্রহ করেছেন, ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট—১৭৪.১৭—যা আইপিএলের মঞ্চে বিধ্বংসী প্রভাব বিস্তার করে। ব্যাটে যেমন তিনি দলের জন্য খেল গড়া সাফল্য এনে দিয়েছিলেন, তেমনি বল হাতেও শিকার করেছেন ১২৩টি উইকেট। বিশেষ করে ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের শিরোপা জয় প্রাপ্তিতে রাসেলের অবদান ছিল নির্ণায়ক; বহু মুহূর্তে তিনি একাই ম্যাচের ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছেন—ফ্যানদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন ‘রাসেল মাসল’।
কেকেআরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভেঙ্কি মাইসোর বলেন, ‘রাসেলের নাম আর ১২ নম্বর জার্সি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মাঠে তাঁর উপস্থিতি সমর্থকদের মধ্যে যে উন্মাদনা তৈরি করত, তা ভুলবার নয়। তাই তাঁকে সম্মান জানানোর সবচেয়ে আর্থবোধক উপায় ছিল এই জার্সিটিকে অবসরে পাঠানো।’
এমন বিরল সম্মানে আবেগাপ্লুত জায়গা থেকেও প্রতিক্রিয়া জানান আন্দ্রে রাসেল নিজেও। তিনি বলেছেন, ‘কলকাতার হয়ে দীর্ঘ পথ চলাটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। দুটি শিরোপা, দলের সমর্থকদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা—এসবই আমাকে আজীবন কৃতজ্ঞ করে রেখেছে।’
আইপিএলে কিংবদন্তিদের সম্মানে জার্সি অবসরে পাঠানোর সংস্কৃতি নতুন হলেও এর নজির রয়েছে—মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স শচীন টেন্ডুলকারের ১০ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠিয়েছিলো এবং কিছু অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের সফল ক্রিকেটারদের জন্য একই ধরনের সম্মান ঘোষণা করেছে। এবার সেই অভিজাত তালিকায় যুক্ত হলেন আন্দ্রে রাসেল; এ ধরনের সম্মান একজন বিদেশি ক্রিকেটারের জন্য যতটা বিরল, ততটাই বিশেষ।
কেকেআর ভক্তরা এখন নতুন ভূমিকায় ডাগআউটে তাঁকে দেখতে মুখিয়ে—রাসেলের অনুপ্রেরণা ও উপস্থিতি ভবিষ্যতেও কলকাতার দলে প্রেরণা যোগাবে, আর ১২ নম্বর জার্সি চিরতরে অবসরে পাঠিয়ে কেকেআর তার স্মৃতিকে স্থায়ী করে দিল।














