ঢালিউডের পরিচিত মুখ আরিফিন শুভ এবার দেশের সীমা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মনোজগতে ছাপ ফেলেছেন। তার অভিনীত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’ ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তির পরই দর্শকদের নজর কাড়ছে এবং টানা দুই দিন ধরে ভারতের ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়—বাংলা সিনেমা ও অভিনেতাদের বিশ্বমঞ্চে নতুন করে প্রতিষ্ঠার নিদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সনি লিভে ১০ পর্বে ১০ মার্চ নয়—বুঝতে ভুলবশত তারিখটি ভুল হলে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ‘জ্যাজ সিটি’ ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায়। প্রায় আট ঘণ্টার এই সিরিজটি মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই দর্শক ও সমালোচকদের মন জিতেছে। ২৩ মার্চ সিরিজটি প্রথমবার ভারতের ট্রেন্ডিং তালিকার এক নম্বরে উঠতে সক্ষম হয় এবং ২৪ মার্চও সেই অবস্থান ধরে রেখেছে। শুধু সাধারণ দর্শক নয়, ভারতের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়াগুলোতেও আরিফিন শুভর অভিনয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সিরিজে আরিফিন শুভ ‘জিমি রয়’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং চরিত্রটির প্রয়োজনে তিনি চারটি ভাষায়—বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি—সংলাপ বলেছেন। বহুজাতিক প্রেক্ষাপট এবং সাবলীল অভিনয়শৈলীর কারণে ভারতীয় দর্শকেরাও তার পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, সনি লিভ এই সিরিজের মাধ্যমে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রথমবার বাংলা অরিজিনাল কন্টেন্ট উপস্থাপন করেছে, যা বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য বিশেষ এক অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সিরিজের পরিচালক সৌমিক সেন, যিনি আগে ‘জুবিলি’র মতো জনপ্রিয় প্রোডাকশনে কাজ করে ইতিমধ্যেই পরিচিত। আরিফিন শুভর নায়কী ভূমিকায় বিপরীতে আছেন ওপার বাংলার অভিনেত্রী সৌরসেনী মিত্র। তদুপরি সিরিজটিতে শانتনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহা প্রমুখরা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন—তাদের অভিনয় ও চরিত্রের রসায়ন সিরিজের সম্পূর্ণতা বৃদ্ধি করেছে।
কাহিনী মূলত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সত্তরের দশকের পটভূমি ঘিরে আবর্তিত। ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তিগত টানাপোড়েন, সামাজিক ও রাজনৈতিক জটিলতা এবং এমন সময়ের মানুষের মানসিক অবস্থা—এসবকে নান্দনিকভাবে গল্পের সঙ্গে মিশিয়ে সিরিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিহাসভিত্তিক এই গল্প ও রোমাঞ্চকর উপস্থাপনা সিরিজটিকে সাধারণ থ্রিলারের বাইরে নিয়ে গেছে।
চলচ্চিত্র ও বিনোদন বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন আন্তর্জাতিক সাফল্য ঢালিউডের শিল্পীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে। সঠিক গল্প ও পেশাদার নির্মাণ থাকলে বাংলাদেশি অভিনেতারা যে কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করতে সক্ষম—’জ্যাজ সিটি’ সেই কথাই জানান দিচ্ছে। এই প্রচ্ছন্ন বিজয় আরিফিন শুভর ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিনোদন জগতের জন্যও এক গর্বের মুহূর্ত।














