ঢাকা | বুধবার | ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

এনআইএ দিল্লিতে নিয়ে গেল ফয়সাল ও আলমগীরকে

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে নিয়ে গেছে। ভারতের পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে কলকাতা থেকেও তাদের দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয় এবং মঙ্গলবার দিল্লির এনআইএ আদালতে তোলা হতে পারে।

পিছনের দৃশ্যপট: গত ৭ মার্চ রাতে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন তাদের আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

এর পরে ২২ মার্চ বিধাননগর আদালতে এনআইএ দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাইলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। একই দিন বিচারক নিশান মজুমদার তাদের ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তথা এসটিএফ ও এনআইএ কারাগারে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তাদের পরবর্তী আদালত তোলা হওয়ার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল।

আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, এনআইএ তৃতীয় অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ভারতে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেনি। তবে ২৩ মার্চ সংস্থাটি আবারও আদালতে আবেদন করে জানায়, দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কা অনুভব করছে এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় না। এরপর আদালত তাদের দিল্লিতে নেওয়ার অনুমতি দেয়।

নথিভুক্ত অভিযোগে ফয়সাল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএয়ের ১৬ ও ১৮ ধারা প্রযোজ্য করা হয়েছে। এসব ধারায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, সহায়তা বা প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। প্রমাণিত হলে সাজা পাঁচ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ফয়সাল করিম বলেছেন, তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাকে গুলি করতে দেখা যাবে না। তবে পরে কেন তিনি ভারতে গেলেন—এ বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।

২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন; উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানেই মারা যান। এই ঘটনার তদন্তে নাম উঠে আসে ফয়সালের। ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে; অভিযুক্তদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

অন্যদিকে একই মামলায় ২১ মার্চ বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকেও ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে; তাকে ৩ এপ্রিল আবার আদালতে তোলা হবে। সংশ্লিষ্টরা এখন বলছে, এই তিন অভিযুক্তের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা কম।